নির্বাচন সংবিধান মেনে হবে, বিএনপির দাবি-দাওয়া মেনে নয়: মেনন

বক্তব্য রাখছেন রাশেদ খান মেনন (ছবি- প্রতিনিধি)

বিএনপির দাবি-দাওয়া নয়; সংবিধান মেনেই আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির নেতারা বলছেন, তারা নির্বাচনে যাবেন। তবে তাদের দাবি-দাওয়া মানলে। আর আমরা বলছি, নির্বাচন সংবিধান মেনে হবে, বিএনপির দাবি-দাওয়া মেনে নয়।’

শনিবার (৩১ মার্চ) বিকালে ওয়ার্কার্স পার্টি রাজশাহী মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা মেরে জেলে গেছেন। তার জন্য এতো কান্নাকাটি কেন? দুর্নীতিগ্রস্ত কোনও ব্যক্তিকেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনা যাবে না।’

ক্ষমতায় যাওয়া থেকে মৌলবাদী শক্তিকে রুখতে অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে এক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি আগুন সন্ত্রাস করেছিল। পেট্রোল বোমা ছুড়েছিল। চারশ’ স্কুল-কলেজ পুড়িয়ে দিয়েছিল। পুলিশ হত্যা করেছিল। প্রিসাইডিং অফিসারকে হত্যা করেছিল। কী করে নাই তারা?’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘নির্বাচন শুধু বিএনপির জন্য নয়; সব রাজনৈতিক দলের জন্য। তাই সবার অংশগ্রহণের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচন হবে।’

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আগামি নির্বাচনে আপনার ভোট শুধু প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, গোটা বাংলাদেশের ভাগ্যও নির্ধারণ করবে।’

বিভিন্ন সূচকে সরকারের উন্নয়নের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এ সরকারের অধীনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ সর্বস্তরে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এই উন্নতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আগামী নির্বাচনেও ভোটদানের মাধ্যমে এ সরকারকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করতে হবে। এ সরকার ক্ষমতায় না আসলে দেশ চলে যাবে বিএনপি-জামায়াত মৌলবাদী শক্তিদের হাতে। তাদের হাতে দেশ গেলে আবার লুটপাট, ধর্ষণ, বোমা বিস্ফোরণ দেখতে হবে।’

রাজশাহী মহানগর কমিটির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুর সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন– ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। এছাড়া, বক্তব্য রাখেন– ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসিন আলী এমপি, রাজশাহী জেলা সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু। সভা পরিচালনা করেন– ওয়ার্কার্স পার্টির নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘এই রাজশাহীতে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটিয়েছিলেন বিএনপির নেতারা। আওয়ামী লীগ আর বাম নেতাদের হত্যা করতে বিএনপির কোন নেতা কতো টাকা জঙ্গিদের দিয়েছিল, তার হিসাব আছে আদালতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১৪ দলের মধ্যে ঐক্য থাকলে জঙ্গিদের মদদদাতাদের দল কখনও ক্ষমতায় আসবে না। জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি হাজার বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’

এদিকে, শনিবার দুপুরে রাজশাহীর একটি কনভেশন সেন্টারে বিভাগীয় সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকার প্রতিবন্ধীদের কল্যাণে কাজ করছে। সরকার প্রতিবন্ধী ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করেছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান টেকসই করতে হলে সবাইকে উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে হবে। সমাজে শ্রেণি বৈষম্যের আর কোনও সুযোগ নেই। সরকার দলিত, বেদে, হিজড়া, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সব সম্প্রদায়কে এগিয়ে নিতে সামাজিক নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’

অনুষ্ঠানে ৭ জন ক্যান্সার রোগীর মাঝে ৫০ হাজার টাকা করে মোট তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৩৪ জন দলিত হরিজন ও ১৯৫ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মাঝে শিক্ষা উপবৃত্তির চেক ও ২৫ জন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ব্যক্তির এককালীন অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। এছাড়া, ৫ জন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মাঝে ৫টি হুইল চেয়ার দেওয়া হয়।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক এস. এম. আব্দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জুলফিকার হায়দার, উপ-পরিচালক মো. রাশেদুল কবিরসহ রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।