সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে ভারত: হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা

বক্তব্য রাখছেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা (ছবি- প্রতিনিধি)

গত দুই বছরে বাংলাদেশ ও ভারতে মধ্যকার সম্পর্ক এক ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাই-কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। তিনি বলেছেন, ‘গত দুই বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজতর হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে ভ্রমণকারী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। এছাড়া, দুই দেশের মধ্যকার সংস্কৃতিক বন্ধনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর সে সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। সুসময় ও দুঃসময়, সবসময়ই ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকবে।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নাট্যকলা বিভাগের আয়োজনে ও ভারতীয় হাই-কমিশনের সহযোগিতায় আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী নাট্যোৎসব-২০১৮’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘বর্তমানে সমাজের অগ্রভ্রমণ আটকা পড়ে আছে। যখনই সমাজ অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে, তখনই সমাজের টুটি চেপে ধরতে ধেয়ে আসছে অপশক্তি। অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই।’

অনুষ্ঠানে নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি ড. আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, নাট্যব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মলয় ভৌমিক ও রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য বিভাগের অধ্যাপক সোমনাথ সিনহা।

এর আগে সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন চত্বরে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান। এসময় উপস্থিত ছিলেন– হর্ষ বর্ধন শ্রীংলা, হাসান আজিজুল হক, অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আরিফ হায়দার ও সহকারী ভারতীয় রাষ্ট্রদূত অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়। উদ্বোধন শেষে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসবের প্রথম দিন ভারতীয় নাট্যকার শ্রুতি বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় ‘জয় জয় ভানু জয় জয়দেব’ মঞ্চস্থ হয়। সপ্তাহব্যাপী এ উৎসবে বাংলাদেশ-ভারতের মোট ১৩টি নাটক মঞ্চস্থ হবে। প্রতিদিন বিকাল ৪টায় শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে নাটকগুলো মঞ্চস্থ হবে। আগামী ৭ এপ্রিল উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে।