প্রবেশপত্র না থাকায় গাজীপুরে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি ৭ শিক্ষার্থী

Gazipur pic (3)প্রবেশপত্র না থাকায় এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি গাজীপুর কিংস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৭ শিক্ষার্থী। এসব শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, প্রবেশপত্র সরবরাহের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ।

গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউপি সদস্য ও অভিভাবক মো. রাসেল ভূইয়া জানান, এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র সরবরাহের জন্য অধ্যক্ষ দেওয়ান মাহমুদুল হাসান রাজন রবিবার রাতে তার শ্যালক ও সহপাঠীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার করে ১০ হাজার টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। তার শ্যালক এবং ওই কলেজের ছাত্র আবু বকরের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ এ বছরই শেষ।

অভিভাবক মো. রাসেল ভূইয়া জানান, রবিবার রাত থেকে অধ্যক্ষকে মোবাইলে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করছেন না। অনেক সময় মোবাইল বন্ধ করে রাখছেন। পরে সোমবার প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে অফিস ও শ্রেণীকক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। কলেজটির হোস্টেল সুপার মো. ফরিদও চা পানের কথা বলে রবিবার রাতে শিক্ষার্থীদের ভেতরে রেখে তালা আটকে রহস্যজনকভাবে সোমবার দুপুর পর্যন্ত উধাও হয়ে যান।

রাসেল ভূইয়ার মতো আরও কয়েকজন অভিভাবক প্রবেশপত্র আনতে গিয়ে ওই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। অভিভাবক রাশিদুল ইসলাম জানান, তার শ্যালিকা জেমি আক্তারসহ চারজন এবার কিংস কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা। তাদের মধ্যে একজনকে কসমিক কলেজ থেকে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে প্রবেশপত্র সরবরাহ করলেও অন্যদের কোনও প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি। ফলে তারা সোমবার শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। শিক্ষার্থীদের এ সংখ্যা কমপক্ষে সাতজন হবে বলে জানান তিনি।

হোস্টেল সুপার ফরিদুল ইসলাম জানান, তার এক আত্মীয়ের অসুখ থাকায় তিনি রাতে তালা আটকে চাবিটা বিছানার নিচে লুকিয়ে রেখে গেছেন। কিন্তু হোস্টেলে অবস্থানরত দুই পরীক্ষার্থী প্রবেশপত্র না পেয়ে রাতে হোস্টেলের গেটের তালা আটকে চলে যায়।

হোস্টেল সুপার ফরিদুল ইসলাম একবার বলছেন সোমবার সকালে কাজের বুয়া ওই তালা খুলে রান্না করে গেছেন। আবার বলছেন দুপুরে গিয়ে জানতে পারি শিক্ষার্থীরা ওই তালা ভেঙ্গে ফেলেছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার বিদ্যালয়ে গিয়ে তারা শ্রেণীকক্ষ ও অফিস তালাবদ্ধ দেখতে পায়। পরে সবাই মিলে বাসায় ফিরে যায়।

সোমবার পঠন-পাঠন বন্ধ থাকার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ কোনও নোটিশ দেয়নি।

অবনী সাহা নামের এক শিক্ষার্থী জানান, তার মামা সঞ্জয় দাসেরও সোমবার এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল। তার কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন ও প্রবেশপত্র সরবরাহের কথা বলে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাকেও প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি।

স্কুলের দিবা শাখার শিক্ষিকা মাহমুদা সুলতানা জানান, সোমবার সকালে পঠন-পাঠনে অংশ নিতে গিয়ে তার মত অন্য সহকর্মীরাও শ্রেণীকক্ষ এবং অফিস রুম বন্ধ দেখতে পান। এজন্য তারা পঠন-পাঠনে অংশ নিতে পারেননি। বন্ধ থাকার ব্যাপারে তাদের আগে কোনও নোটিশও দেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার অধ্যক্ষের মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একাধিকবার তার নাম্বার বন্ধও পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী সরকারি কলেজের দু’জন শিক্ষককে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন।