আইনজীবী রথিশ হত্যা: আদালতে দীপা ভৌমিকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

দীপা ভৌমিক (ছবি- প্রতিনিধি)

রংপুরের আইনজীবী রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনাকে হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী দীপা ভৌমিক এবং আরও দুই আসামি সবুজ ও রোকন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে জবানবন্দি দিতে অসম্মতি জানানোয় আদালত অন্য আসামি কামরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে (রিমান্ডে) নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে রংপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দীপা ভৌমিক, সবুজ ও রোকনের জবানবন্দি গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি- তদন্ত) মুখতারুলৈ ইসলাম। ওসি মুখতারুলৈ ইসলাম আরও জানান, অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফা ইয়াসমিন মুক্তাই আসামি কামরুল ইসলামকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে দীপা ভৌমিক, কামরুল ইসলাম, সবুজ ও রোকনকে আদালতে হাজির করা হয়।

এর আগে বিকালে একই আদালতে হাজির করা হয় আইনজীবী রথিশের ব্যক্তিগত সহকারী মিলন মোহন্তকে। তাকে আইনজীবী রথিশ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পরে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালতের নির্দেশে তাকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতে আনা হচ্ছে আসামি কামরুল ইসলামকে (ছবি- প্রতিনিধি)

গত শুক্রবার (৩০ মার্চ) সকাল সোয়া ছয়টায় শহরের তাজহাট বাবুপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে রথীশ আর ফেরেননি বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এর পরদিন শনিবার (৩১ মার্চ) নগরীর রাধাবল্লভ এলাকার বাসা থেকে বাবু সোনার স্ত্রী দীপা ভৌমিকের প্রেমিক কামরুল ইসলাম জাফরীকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর দীপা ভৌমিককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে রংপুর নগরীর তাজহাট মোল্লাপাড়ার একটি নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় বাবু সোনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, দুই মাস আগেই আইনজীবী রথিশ চন্দ্রকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তার স্ত্রী দীপা ভৌমিক। এই পরিকল্পনায় সহযোগী ছিলেন তার প্রেমিক কামরুল ইসলাম। তাদের দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, রথিশ চন্দ্রকে হত্যা করে তার লাশ গুম করার জন্য নগরীর তাজহাট মোল্লাপাড়ায় কামরুল তার বাড়ির নির্মাণকাজ অসমাপ্ত রাখেন। গত ২৯ মার্চ তারা রথিশ চন্দ্রকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দীপা ও কামরুলের কর্মস্থল তাজহাট উচ্চবিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী সবুজ ও রোকনকে দিয়ে কামরুলের নির্মাণাধীন বাড়ির মধ্যে একটি গর্ত খুঁড়ে রাখে। লাশ ঢেকে পুঁতে রাখার জন্য পলিথিন ও বালুও সংগ্রহ করে রাখা হয়।