সীতাকুণ্ডে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পদক্ষেপ দাবি

সীতাকুণ্ডে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পদক্ষেপ দাবি

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

নগরীর সিটি গেট থেকে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগা হাট পর্যন্ত এই মানবববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্কুল কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

সীতাকুণ্ডে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পদক্ষেপ দাবি

এর আগে শুক্রবার বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয়রা জানান, গত তিন মাসে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকায় ৩৩ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, আহত হয়েছেন শতাধিক।
মানববন্ধন বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক মোরশেদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কৃষক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তফা কামাল চোধুরী, সীতাকুণ্ড সমিতি (চট্টগ্রাম)-এর সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন, জেলা পরিষদ সদস্য আ.ম.ম. দিলশাদ, মানববন্ধন বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়কারী খুরশেদ আলম, সাংস্কৃতিক কর্মী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী সুরাইয়া বাকের প্রমুখ।

সীতাকুণ্ডে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পদক্ষেপ দাবি

বক্তারা বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড এলাকায় যানবাহনগুলোর মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া, রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে পথচারীদের হতাহতের ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে প্রাণ হারাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বেপরোয়া বাস চলাচলের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, যা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’ 

তারা বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব্যস্ততম মোড়ে পথচারী পারাপারের জন্য ওভারব্রিজ বা আন্ডারপাস ও ইউটার্ন নির্মাণ করতে হবে। গাড়ির লাইসেন্স ও চালকদের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে।’ এছাড়াও অনির্ধারিত জায়গায় পার্কিং, মহাসড়কের দুইপাশে স্থাপিত অবৈধ দোকান ও বাজার উচ্ছেদ করা, অতিরিক্ত পণ্য ও যাত্রী পরিবহন বন্ধ, ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগের দাবি জানান তারা।