স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম প্রধান অতিনিধির বক্তব্যে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন ঠেকাতে নানা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচন নিয়ে কোনও ফর্মূলা দিয়ে বা চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে লাভ নেই। নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতাও কারও নেই। বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের মতো বাংলাদেশেও সংবিধান অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে। নির্বাচন হবে অবাধ ও সুষ্ঠু। ওই নির্বাচনি মাঠে যারা ফাউল করবে, জনগণ তাদের লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেবে।’
কাজীপুরের বরইতলীতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, পাঁচ’শ আসন বিশিষ্ট শহীদ এম মনসুর আলী অডিটোরিয়াম ও কুড়িপাড়ায় শহীদ এম মনসুর আলী স্মৃতি জামে মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত কাজীপুর উপজেলা পরিষদ মাঠে এ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজম্মেল হক ও নৌ পরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খান। সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক এমপি তানভীর শাকিল জয়। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন বগুড়া -৫ আসনের এমপি হাবিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু ইউসুফ সূর্য্য, কাজীপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বকুল ও দলের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী।
উন্নয়ন ও শান্তির জন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কোনও বিকল্প নেই মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আবারও নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান স্থানীয়দের। তিনি বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত চক্র ক্ষমতায় এলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাবে। দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।’
জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এ কারণেই বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সংকটসহ সব সমস্যা সমাধান করবে এই সরকার।’
নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহাজাহান খান খালেদা জিয়াকে মিথ্যাচারের ‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন’ অভিহিত করে বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত খুনির দল। তাদের হাতে দেশ ও দেশের মানুষ নিরাপদ নয়। খালেদা জিয়া ১৪ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধার কোটা নিয়ে আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্র করছে।’
কাজীপুরে তিন মন্ত্রীর আগমণ উপলক্ষে মোহাম্মদ নাসিমের নির্বাচনি এলাকা সিরাজগঞ্জ সদরের ছোনগাছা ইউনিয়নের সাহানগাছা থেকে কাজীপুরের মেঘাই পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক জুড়ে প্রায় এক শ’ রঙবেরঙের তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিল। জাতীয় পতাকার রংয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতীক নৌকার আকৃতিতে নির্মাণ করা হয়েছিল জনসভার বিশাল মঞ্চ। জনসভার চারদিকে কাজীপুরের নানা মাত্রিক উন্নয়নের ছাপচিত্র শোভা পাচ্ছিল। কাজীপুর পৌরসভা রোড হয়ে আলমপুর চৌরাস্তা পেরিয়ে উপজেলা পরিষদের জনসভাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তার দুই পাড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে তিন মন্ত্রীকে ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তিন মন্ত্রীর আসার খবরে উপজেলা পরিষদ চত্বরের মাঠ কানায় কানায় লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
এর আগে তিন মন্ত্রী যৌথভাবে কাজীপুর উপজেলা চত্বরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। পরে মেঘাই ঘাটে নৌপরিবহণ মন্ত্রী শাহজাহান খানের নেতৃত্বে নৌঘাট পরিদর্শন করা হয়। বিকালে পিপুলবাড়িয়ায় রতনকান্দি, বাগবাটি, চোনগাছা ও মেছড়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধন অনুষ্ঠানে তিন মন্ত্রী যোগ দেন। এখানে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম চৌধুরীসহ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।