‘বাজেটে কর্মসংস্থানের টার্গেট প্রকাশ না হওয়াটা কোটাবিরোধী আন্দোলনের একটা কারণ’

বক্তব্য রাখছেন ফজলে হোসেন বাদশা (ছবি- প্রতিনিধি)

আসন্ন বাজেটে নতুন কর্মসংস্থানের হিসাব অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। রাজশাহী সদর আসনের এই সংসদ সদস্য বলেছেন, ‘বাজেটে নতুন কর্মসংস্থানের টার্গেট প্রকাশ না হওয়াটাও কোটাবিরোধী আন্দোলনের একটা কারণ।’

মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) বিকালে রাজশাহী জেলা ও মহানগর যুবমৈত্রীর উদ্যোগে রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে যুবমৈত্রীর ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘কত ব্যয় করবো, আর কত বিনিয়োগ হবে, বাজেটের এই বিষয় উন্নয়নের মাপকাঠি হতে পারে না। নতুন অর্থবছরে কর্মসংস্থান কেমন সৃষ্টি হবে, সেটাই হচ্ছে উন্নয়নের মাপকাঠি। তাই আসছে বাজেটে আমরা কর্মসংস্থানের হিসাব অন্তর্ভুক্তির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে দাবি জানাই।’

বাদশা আরও বলেন, ‘দেশে কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। কিন্তু যারা আন্দোলন করছেন, তাদের একটা মহল ইন্ধন জুগিয়েছে। কোটা নিয়ে তাদের ভুল বোঝানো হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, কোটার কারণে সবার চাকরি হয় না। কিন্তু আসলে তা নয়। এ জন্যই বাজেটে কর্মসংস্থানের হিসাব প্রকাশ করা উচিত। তা না হলে বাজেট পরিপূর্ণতা পাবে না।’

দেশের যুবকদের উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা না গেলে উন্নয়ন তরান্বিত হবে না উল্লেখ করে যুবমৈত্রীর এই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বলেন, ‘দেশের এক তৃতীয়াংশ মানুষ যুবক। এদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এই পাঁচ কোটি মানুষকে উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। তাদের উন্নয়ন কাজ করার ক্ষমতা রয়েছে। তাদের কিভাবে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সে ব্যাপারে সরকারকে চিন্তা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করতে একটা কুচক্রী মহল কাজ করে যাচ্ছে। এর বিপরীতে থেকে যুবমৈত্রীর প্রতিটি নেতাকর্মীকে কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে তাদের। সেই সঙ্গে বিভ্রান্তিতে পড়া যুবসমাজকে সঠিক পথ দেখাতেও কাজ করতে হবে।’

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন– রাজশাহী জেলা যুবমৈত্রীর সভাপতি মনির উদ্দিন পান্না। তিনি বলেন, ‘যুবমৈত্রী আদর্শের রাজনীতি করে। সেই আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন দেশ গড়া। এর জন্য যুবমৈত্রীর প্রতিটি নেতাকর্মী কাজ করে যাচ্ছেন। মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর না হওয়া পর্যন্ত যুবমৈত্রী কাজ করে যাবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন– জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল হক তোতা ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক দেবু। মহানগর যুবমৈত্রীর সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। মহানগর যুবমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক বকুল সমাবেশ পরিচালনা করেন।