সরকারি সব সেবা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি আছে, দুদকও দুর্নীতিমুক্ত নয়: ইকবাল মাহমুদ

যশোরে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ



দেশে দুর্নীতি নেই, এটা বলার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সরকারি সব সেবা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি আছে। দুদকও দুর্নীতিমুক্ত নয়।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনেকের চাকরি চলে গেছে। অনেকে বিভাগ ছেড়ে চলে গেছে।’

বুধবার (১১ এপ্রিল) যশোর সার্কিট হাউসে খুলনা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের বয়সের লোকদের দিয়ে সোনার বাংলা গড়া সম্ভব নয়। এজন্য আগামী প্রজন্মকে বেছে নিয়েছি। তাদের যদি দুর্নীতিমুক্ত করা যায়, তাহলে আগামী শতকে বিশ্বের সমৃদ্ধশালী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের নাম থাকবে।’ এজন্য তিনি দক্ষ জনশক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের এক কোটি মানুষ বিদেশ থেকে যে রেমিটেন্স পাঠায়, বাংলাদেশে কর্মরত এক লাখ মানুষ তার চেয়ে বেশি টাকা নিয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মাঝে মাঝে আমরা দুর্নীতি দমন করছি। তবে আমরা দুর্নীতি প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। কোনও একক ব্যক্তিকে জেলে দেওয়া আনন্দের বিষয় নয়। বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের এটাও করতে হয়। শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনভাবেই দুর্নীতি মেনে নেওয়া হবে না। শিক্ষকদের মর্যাদা সবার ওপরে। আপনারা শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারে পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করবেন না। আপনারা বাচ্চাদের পড়ার টেবিলে বসানোর ব্যবস্থা করুন। তাহলে তারা কোচিংমুখী হবে না। তারা পড়ার টেবিলে না থাকলে মাদকাসক্তিসহ নানা অপরাধে জড়িতে পড়বে।’

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা আইন মেনে দায়িত্ব পালন করুন। আপনাদের চাকরি কেউ খেতে পারবে না। কেউ যদি চাকরি খায় আমার কাছে যাবেন, আমি আপনাদের চাকরি বুঝিয়ে দেবো।’ 

খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ফারুক হোসেনের সভাপত্বি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি খুলনার রুপসা উপজেলা শাখার সভাপতি আবদুর রশিদ, কলারোয়া শাখার সভাপতি আক্তার আসাদুজ্জামান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম, নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি মনিরুজ্জামান মল্লিক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান প্রমুখ।