মজুত থাকা ইলিশেই ভরসা বাগেরহাটের ব্যবসায়ীদের

মজুদ থাকা ইলিশেই ভরসা বাগেরহাটের ব্যবসায়ীদেরসাগর উত্তাল থাকায় ও কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কায় সমুদ্রগামী জেলেরা বছরের এই সময়টা জাল ও ট্রলার মেরামতের কাজ করেই পার করেন। ফলে সাগরে মাছ থাকলেও জেলেদের আনাগোনা থাকে না বললেই চলে। তাই বাগেরহাটে এবার মজুতকৃত ইলিশ মাছ দিয়েই পহেলা বৈশাখে চাহিদা মেটাচ্ছেন মৎস্য আড়তদারসহ পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো বাগেরহাটেও পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ আয়োজনের চাহিদা থাকে। আর এ সুযোগটাই নেন ব্যবসায়ীরা। পহেলা বৈশাখের ইলিশের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দাম। স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লাভের আশাতেই ব্যবসায়ীরা মজুত করেন ইলিশ। পহেলা বৈশাখের ২/১ দিন আগে থেকেই এসব মাছ ছাড়া হয় বাজারে। বাগেরহাটের প্রধান মৎস্য আড়ত কেবি বাজারে গিয়ে আড়তদার ও পাইকার বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা যায়।মজুদ থাকা ইলিশেই ভরসা বাগেরহাটের ব্যবসায়ীদের

মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েকদিন ধরে সকাল ৬টা থেকে কেবি বাজার মৎস্য আড়তে শুরু হচ্ছে মাছ কেনাবেচা। প্রায় দুই ঘণ্টা ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাকের মধ্য দিয়ে চলে এই বাজার। দক্ষিণাঞ্চলের পাইকারি মাছ বিক্রির ঐতিহ্যবাহী বাজার এটি। খুলনা, গোপালগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলা থেকে খুচরা বিক্রেতা আসেন এখানে মাছ কিনতে। মৌসুমের সময় প্রতিদিনই প্রায় কয়েক টন ইলিশ বিক্রি হয় এই বাজারে।

জানা গেছে, পাইকারি মাছ বিক্রির পুরাতন বাজার হলেও এবারের পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কেবি বাজারে ইলিশ বোঝাই করে সাগর থেকে নতুন করে ভিড়ছে না কোনও ট্রলার। মূলত সাগর ও নদী এ সময় থাকে উত্তাল। জেলেরা নিজেদের নিরাপদ রাখতে এ সময়টাকেই তাদের মাছ ধরার উপকরণ, জাল ও ট্রলার মেরামতের জন্য উপযুক্ত হিসেবে বেছে নেয়। বছরের সবচেয়ে বেশি দাম ও চাহিদা থাকা সত্ত্বে পহেলা বৈশাখে কোল্ডস্টোরে মজুতকৃত ইলিশের ওপর ভরসা রাখতে হচ্ছে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাহিদার কথা মাথায় রেখে এরইমধ্যে ইলিশের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীসহ আড়তদাররা। দাম বাড়ানো হয়েছে জাটকা ইলিশের। ২শ’ থেকে ৩শ’ গ্রামের জাটকা কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা। এছাড়া ৫শ’ থেকে ৬শ’ গ্রামের ইলিশ মাছ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে ৭শ’ টাকায়। তবে কেবি বাজারে এই সাইজের বড় ইলিশের দেখা মেলা ভার। এছাড়া বাগেরহাট সদর উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাজারসহ ছোটখাটো হাটবাজারে এখন সব ধরনের ইলিশের কদর বেশি। এ কারণে এসব বাজারে জাটকা ইলিশের দেখা মিলছে বেশি।ইলিশ

বাগেরহাট মাছ বাজারের পাইকারি মাছ বিক্রেতা কামাল হোসেন বলেন, ‘নতুন করে কোনও মাছ না আসায় আমরা মজুত রাখা ইলিশ দিয়ে এবারের পহেলা বৈশাখে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাচ্ছি। কোল্ডস্টোরের মজুতকৃত মাছ, তাই দাম ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। এছাড়াও বাজারে সামান্য কিছু তাজা মাছ পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলোর দাম আকাশছোঁয়া।’

বাগেরহাট বাজারে মাছ কিনতে আসা এনজিওকর্মী তারিক আহমেদ বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বছরের এ সময়টায় ইলিশের দাম বেড়ে যায়। তাই আগেভাগেই এসেছি মাছ কিনতে। দাম মোটামুটি কমই আছে। তবে বড় ইলিশের দাম অনেক বেশি।’

উপকূলীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি শেখ ইদ্রিস আলী বলেন, ‘বছরে এ সময়টায় জেলেরা তাদের জাল ও ট্রলার মেরামতের কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ কারণে নদী বা সাগরে মাছ থাকলেও সেই পরিমাণ জেলে নদী বা সাগরে মাছ ধরছে না। আর এ কারণেই বাগেরহাট কেবি বাজারে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে নতুন কোনও মাছ আসছে না। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা যে মাছগুলো কোল্ডস্টোরে মজুত করেছিলেন সেগুলো এখন বাজারে ছাড়া হচ্ছে।’

বাগেরহাট কেবি মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি এসএম আবেদ আলী বলেন, ‘সারা বছরই এবার ইলিশের দাম ভালো থাকায় ব্যবসায়ীরা ইলিশের মজুত কম করেছেন। তবে চাহিদা অনুযায়ী বাজারে ইলিশ মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।’