মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে যা বললেন কেসিসি’র পাঁচ মেয়র প্রার্থী

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনখুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে বৃহস্পতিবার উৎসবের আমেজে মেয়র পদে পাঁচ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ সময় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক খুলনার উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী ভোটের মাঠে কারচুপির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে নতুন ভাবনা-নতুন নেতৃত্বের কথা জানিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী পরিকল্পিতভাবে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সিপিবি মনোনীত প্রার্থীও পরিকল্পিত উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও মহানগর কমিটির সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘গত পাঁচ বছর খুলনার মানুষ উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে। আমি আশা করি, আগামী ১৫ মে নির্বাচনে ভোটাররা সঠিক জায়গায় ভোট দিয়ে তাদের উন্নয়ন বঞ্চনা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে। আমরা খুলনার মানুষকে সেবা দিতে চাই। যা আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া সম্ভব নয়।’ সাবেক এই মেয়র আরও বলেন, ‘এবার নির্বাচিত হলে খুলনা সিটি করপোরেশনকে যেখানে রেখে গিয়েছিলাম, সেখান থেকেই শুরু করতে চাই। আমি এমনভাবে নাগরিক সেবা বৃদ্ধি করবো যাতে মানুষ সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে একটি পরিচ্ছন্ন নগরী দেখতে পায়।’ ২০০৮ সালের নির্বাচনে তালুকদার আব্দুল খালেক মেয়র নির্বাচিত হলেও ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে তিনি পরাজিত হন।

বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘খুলনায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ধানের শীষ কখনও পরাজিত হয়নি। কোনও দল কখনও এখানে বিএনপিকে পরাজিত করতে পারেনি। সেই কারণেই এই শহর বিএনপির শহর। তবে শঙ্কা রয়েছে, জনগণ তাদের ভোট দিতে পারবে কিনা। তাদের ভোট সঠিকভাবে গোণা হবে কিনা। জনগনের এই শঙ্কা থেকেই বিএনপি বারবার লেবেল প্লেয়িং ফিল্ডের দাবি জানিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে স্মারকলিপি দিয়েছি। কিন্তু তারা  এক সপ্তাহেও কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। গতকাল রাতে পুলিশ নগর বিএনপির এক নেতার বাড়িতে হামলা করেছে। তার আত্মীয়কে ধরে নিয়ে গেছে। আমরা বলেছি, ছাত্রলীগ-যুবলীগ করা পুলিশ ও প্রশাসন দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করলে তা সুষ্ঠু হবে না।’ 

জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘পল্লীবন্ধু এরশাদ আমাকে সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র হলেও আমরা নির্বাচনে অংশ নেবো।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির উন্নয়নের চিত্র এই শহরের মানুষ দেখেছে। নাগরিক সেবা না পেয়ে মানুষ হতাশ হয়ে পড়েছে।  এখন তারা নতুন কিছু দেখতে চায়, পরিবর্তন চায়। আমি নির্বাচিত হলে খুলনার উন্নয়নে কাজ করবো।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক বলেন, ‘সিটি করপোরেশনকে আমরা সুন্দরভাবে সাজাতে চাই। আমরা নির্বাচিত হলে নাগরিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করবো। প্রতিটি ওয়ার্ডে আলাদা মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। এছাড়া রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে কাজ করবো। সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন উপহার দিতে চাই নগরবাসীকে।’ 

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির নগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু বলেন, ‘নগরীতে দুই ধরনের মানুষ বাস করে। গরীব মানুষ ও ধনী মানুষ। নগরীর উন্নয়নে যেসব প্রকল্প গ্রহণ করা হয় তার সুফল ধনীরাই পেয়ে থাকেন। আমরা বুর্জোয়া রাজনীতির বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে। পরিকল্পিত উন্নয়ন করার চিন্তা নিয়েই নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছি।’