গম-মসুর ছেড়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা

ভুট্টা (ছবি- সংগৃহীত)

যশোরের শার্শা উপজেলায় এবার কৃষকেরা গম ও মসুর ছেড়ে ভুট্টা আবাদের দিকে ঝুঁকছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গমে ব্লাস্ট এবং মসুরে স্ট্রেইন থাইলিয়ান ব্লাইড রোগ দেখা দেওয়ায় তারা গম ও মসুর চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, রোগের সংক্রমণ ছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগে গম ও মসুরের ব্যাপক ক্ষতি হয়। কিন্তু ভুট্টা চাষে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তেমন একটা প্রভাব পড়ে না। এ ছাড়া, কম খরচে ভুট্টা চাষ করে লাভ বেশি পাওয়া যায়। তাই প্রতি বছর ভুট্টার চাষ বাড়ছে।

এ সূত্র আরও জানায়, ৩৪টি ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উপজেলার চাষিদের ভুট্টা চাষের ব্যাপারে নানা পরামর্শ দেওয়া হয়। হাইব্রিড জাতের ভুট্টা চাষকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের এনএটিপি-ফেজ-২ প্রকল্পের আওতায় কৃষি অফিসের মাধ্যমে চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কৃষি উপকরণও সরবরাহ করা হচ্ছে।

রাজনগর গ্রামের চাষি একসের আলী বলেন, গত কয়েক বছর আমার পাঁচ বিঘা জমিতে আমি গম চাষ করেছি। কিন্তু ব্লাস্ট রোগের কারণে গম চাষ ছেড়ে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে এবার পাঁচ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের ভুট্টার আবাদ করেছি। আশা করি, ফলন ভালো হবে।

শার্শা উপজেলার রাজনগর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুখেন্দু কুমার মন্ডল বলেন, প্রতি বছর গম ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রাকৃতিক কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় চাষিদের গম চাষ করতে নিষেধ করা হচ্ছে। এ ছাড়া, স্টেইন থাইলিয়ান ব্লাইড রোগে আক্রান্ত হওয়ায় মসুর চাষিরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আশানুরূপ ফলন না পেয়ে গম ও মসুর চাষে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরককুমার জানান, চলতি বছরে শার্শায় ৮শ’ বিঘা জমিতে হাইব্রিড জাতের ভুট্টার চাষ হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে ৩৫-৪০ মণ ভুট্টা উৎপাদিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।