হাত হারানো হৃদয় শেখের বাবা শেখ রবিউল ইসলাম জানান, হৃদয়কে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি জরুরি বিভাগের নিচতলায় ১০২ নং ওয়ার্ডের ২৪ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হৃদয়ের কেটে পড়া হাত জোড়া লাগানো সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
গোপালগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে যায়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাটের কাটাখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক ট্রাকসহ চালক জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। আজ বুধবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হৃদয় শেখের হাত হারানোর ঘটনায় ট্রাক চালকের দোষ রয়েছে। ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলে তারা গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গ্রেফতারকৃত ট্রাক চালক জাকির হোসেন মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার পশ্চিম কাকই গ্রামের মৃত নুরু শরীফের ছেলে।’
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাক চালক অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি চালাচ্ছিল। এ কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সড়কে অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। এই কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকাগামী বাস টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিকে থেকে আসা দ্রুতগামী একটি ট্রাক ব্যাটারিচালিত একটি ইজিবাইককে ওভারটের করতে যায়। এসময় ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগায়। সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ের ডানহাত কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাস্তায় পড়ে যায়। একটি সূত্র জানায়, এসময় হৃদয়ের হাত বাসের বাইরে ছিল।তাকে প্রথমে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাত হারানো যুবক হৃদয় টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের অন্য একটি গাড়িতে হেলপার হিসাবে কাজ করেন। তিনি টুঙ্গিপাড়া থেকে গোপালগঞ্জ জেলা সদরে আসার সময় এ দুর্ঘটনার শিকার হন।
আরও পড়ুন- ট্রাকের ধাক্কায় হাত হারালেন বাসযাত্রী