কর ফাঁকির মামলায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)দায়ের করা কর ফাঁকির মামলায় জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মফিজুর রহমান ভূঁইয়া তার জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট আদালতের সহকারী কমিশনার (এসি, প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী। তিনি জানান,দুদকের দায়ের করা কর ফাঁকির মামলায় বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খান সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে আদালতের বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, গত বছর আমদানি করা বিলাসবহুল গাড়ি চোরাই পথে বিক্রি ও জাল কাগজপত্র তৈরি করে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে সিলেটে বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক (এডি), যুক্তরাজ্য প্রবাসী ও আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফরিদুর রহমান।
মামলার অপর আসামিরা হলেন, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার তিলক গ্রামের রুপা মিয়া, সিলেটের বিশ্বনাথের ভোগশাইল গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পংকি খান, সুনামগঞ্জের হাজীপাড়ার মোর্শেদ আলম বেলাল, বিশ্বনাথের হাছন নগরের রুমান আহমদ, সিলেট বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী এনায়েত হোসেন মন্টু, বিআরটিএ’র উচ্চমান সহকারী আব্দুর রব ও বিআরটিএ’র ইন্সপেক্টর কেশব কুমার দাস।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, লন্ডন প্রবাসী রুপা চৌধুরী কার্নেট ডি প্যাসেজ সুবিধার আওতায় ২০০৭ সালের ১৪ই মার্চ একটি বিলাসবহুল লেক্সাস আর এক্স ৩০০ গাড়ি আমদানির চুক্তি করেন। গাড়িটি খালাস হয় ২০১০ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর। আমদানির এক বছরের মাথায় গাড়ি ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু, গাড়ি ফেরত না দিয়ে রুপা চৌধুরী এটি বিশ্বনাথ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি পংকি খানের কাছে বিক্রি করেন। গাড়িটি কেনার পর পংকি খান ২৯ লাখ টাকা মূল্যে এটি সুনামগঞ্জের মোর্শেদ আলমের কাছে বিক্রি করেন। এরপর সিলেট বিআরটিএ’র মাধ্যমে জাল কাগজপত্র তৈরি করে গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন (নম্বর-সিলেট-ঘ-১১-০৩০১) করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স উইং ২০১৬ সালের ৬ই জুন সুনামগঞ্জের হাজীপাড়া থেকে গাড়িটি জব্দ করে। বিষয়টি তদন্ত করে দুদক এক কোটি ৭৪ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৭ টাকা ৬৮ পয়সা রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পায়।