বরিশালে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ, আটক ৩

বরিশাল

বরিশালে নগরীর কাশিপুরে এক কলেজ ছাত্রীকে (১৮)ধর্ষণের অভিযোগে তিন জনকে আটক  করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বরিশাল নগরীর মথুরানাথ পাবলিক স্কুল সড়কের সিকদার ভিলা নামে একটি ছাত্র মেস থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার ও একজনকে আটক করা হয়। পরে আটককৃতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাকি দুজনকে আটক  করা হয়।

আটককৃতরা হলো, রায়হান মল্লিক রাব্বি (২৬),মানিক শেখ (৩০) ও সজীব (২৫)। আটককৃতদের মধ্যে দুই জন পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। অন্যজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

শুক্রবার রাতে বরিশাল কোতওয়ালি পুলিশের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমীন জানান,‘আটক তিন জনের মধ্যে স্থানীয় কলেজ রোড এলাকার মাস্তান রায়হান মল্লিক রাব্বি (২৬)ও তার সহযোগী মানিক শেখ (৩০) ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।  এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিকালে ঘটনাস্থল থেকে আটক ওই মেসের বাসিন্দা বিএম কলেজের মার্কেটিং বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র ও বাকেরগঞ্জের পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের জামাল হাওলাদারের ছেলে সাইফুল ইসলাম সজিব এখনও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেনি। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ ওই  ছাত্র মেস থেকে অচেতন অবস্থায় ধর্ষণের শিকার কলেজ ছাত্রীকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এস এম রুহুল আমীন জানান,  ধর্ষণের শিকার ছাত্রীর অবস্থা ভালো নয়। মনে হচ্ছে ধর্ষকরা এই ছাত্রীকে কিছু খাইয়ে ধর্ষণ করেছে। তিনি ঠিকমত কথা বলতে পারছেন না। মোটামুটি সুস্থ হওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।

পুলিশ কমিশনার আরও জানান, ওই ছাত্রী কিছু নোট আনতে সকালে বিএম কলেজের সামনে তার বন্ধু সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ইমতিয়াজের মেসে যায়। এ সময় স্থানীয় বখাটে রাব্বী মল্লিক তাদের জিম্মি করে এবং মেসে ছাত্রী আনার অভিযোগে ইমতিয়াজকে লাঞ্ছিত করে তাড়িয়ে দেয়। পরে মেয়েটিকে জোর করে সামনের মথুরানাথ পাবলিক স্কুল সড়কের হানিফ সিকদারের মালিকানাধীন সিকদার ভিলার ছাত্রমেসে নিয়ে যায়। সেখানে সজিবের কক্ষে নিয়ে চেতনানাশক খাইয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে রাব্বী ও মানিক। এরপর রাব্বি নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীকে সজিবের জিম্মায় রেখে তারা পালিয়ে যায়।

এরমধ্যে ইমতিয়াজ সহপাঠী বান্ধবীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার খবর পুলিশকে জানালে পুলিশ ওই ছাত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে সজীবকে আটক করে। সজীবকে আটকের পরপরই পুলিশ সাঁড়াশি অভিযানে নেমে ঘটনার মূল হোতা বিএম কলেজ এলাকার মৃত বাবুল মল্লিকের ছেলে রাব্বি মল্লিককে লাকুটিয়া সড়ক থেকে এবং তার সহযোগী  মানিক শেখকে তালভিটা এলাকা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আটক  করে।

পুলিশ সূত্র  জানায়, এই ঘটনার মূল হোতা রাব্বি মল্লিক  ও মানিক শেখ পুলিশের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে বরিশাল থানায় ৬/৭টি মামলা রয়েছে। বিএম কলেজ এলাকার স্থানীয়রা জানিয়েছেন রাব্বি মল্লিকের বাসা  বিএম কলেজের সামনে হওয়ায় সে কলেজের ছাত্রছাত্রীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় ও ছিনতাই থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্ম করতো।

আটক অপর আসামি সাইফুল ইসলাম সজীব ২০নং ওয়ার্ড এলাকার চিহ্নিত ইয়াবা বিক্রেতা। তার বিরুদ্ধেও স্থানীয় সূত্রে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে।