গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সবুজ জানান, সিটি নির্বাচনে ৫৭টি ওয়ার্ডে কাজ করার জন্য ১১৬টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কমিটি ১০ সদস্যের। কমিটিতে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রয়েছেন। তারা আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে গত ২৪ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাম্মদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অসিম কুমার উকিল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সদস্য সিমিন হোসেন রিমি এমপি, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান, কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল উদ্দিন সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কবীর, কালিয়াকৈর উপজেলা চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাসেল, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশরাফ সিকদার, আমীর হামজা, আব্দুল হাকিম, শাহ আলম প্রমুখ।
সভায় জাহাঙ্গীর কবীর নানক বলেন, ‘সিটি নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে বিএনপি বলেছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আমাদের হলুদ কার্ড ও জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে লাল কার্ড দেখাবে। আসলে ওনারাই তো লাল কার্ড নিয়ে মাঠ থেকে বিতারিত হয়ে গেছেন। ওনারাই ওনাদের হলুদ কার্ড দেখাচ্ছেন। বিএনপির রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে গেছে। বিএনপির রাজনীতির আর প্রয়োজন নেই। গাজীপুর আওয়ামী লীগের ঘাঁটি। এই ঘাঁটি আছে, থাকবে। গাজীপুর নৌকার এলাকা। এখানে সব সময় নৌকার ঘাঁটি। আগামী ১৫ মে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয় লাভ করবেন।’
গাজীপুরে গত সিটি নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী একলাখ ভোট বেশি পেয়ে মেয়ের নির্বাচিত হয়েছিলেন,এ প্রশ্নের জবাবে নানক সাংবাদিকদের বলেন,‘গত নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের ঘটনাকে পুঁজি করে সেদিন বিএনপি-জামায়াত যে মিথ্যাচার, অপপ্রচার চালিয়েছে, সে জন্য সরল ধর্মপ্রাণ মানুষেরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিল। সেই বিভ্রান্তির কারণে অনেক জায়গায় অঘটন ঘটেছে। আমরা এটাকে অঘটন বলে মনে করি। ’
নির্বাচনে বিএনপির সেনা মোতায়েনের দাবির প্রসঙ্গে নানক বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীন। কাজেই নির্বাচন কমিশন একটি নীতিমালার ওপর পরিচালিত হয়। কমিশন তার নীতিমালা অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। নির্বাচন কমিশন বলেছে, সেনা মোতায়েনের কোনও প্রয়োজন নেই। গাজীপুরে গত চারদিন ধরে সব প্রার্থীরাই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে প্রচার-প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রচারণায় কোনও বাধা নেই, বিপত্তি নেই। কাজেই এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন কোনও অবনতি হয়নি। যে কারণে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাইরে সেনা বাহিনীকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে।