ওই ছাত্রের স্বজনরা জানান, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বনানী এলাকার জনৈক ব্যক্তির ছেলে শহরের একটি নামি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। সে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় ভাইপাগলা মাজার লেনে জিন্নুরাইন কোচিং একাডেমিতে পড়তো। গত ১৮ এপ্রিল বিকাল চারটার দিকে কোচিং সেন্টারে অন্য শিক্ষার্থীরা না থাকায় এক শিক্ষক ওই ছাত্রকে জোরপূর্বক বলাৎকার করে। ঘটনাটি যাতে বাবা-মাকে বলে না দেয় সেজন্য ছাত্রকে ওই শিক্ষক হুমকিও দেন। ভয়ে শিশুটি কাউকে কিছু বলেনি। গত ২৫ এপ্রিল রক্তক্ষরণ হলে মা টের পেয়ে তার ছেলের কাছে কারণ জানতে চান। তখন ছাত্রটি তার মাকে জানায় যে, অজ্ঞাত এক শিক্ষক তাকে বলাৎকার করেছে। নির্যাতনের শিকার শিশুর মা ওইদিনই সদর থানায় অজ্ঞাত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় (যৌন হয়রানি) মামলা করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম জানান, ২৫ এপ্রিল আদালত শিশুর জবানবন্দি রেকর্ড করেছে। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে বলাৎকারের সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার পর কর্তৃপক্ষ কোচিং সেন্টারে তালা দিয়ে আত্মগোপন করেছে। তিনি দাবি করেন, গত কয়েকদিনেও অভিযুক্ত শিক্ষক ও কোচিং সেন্টারের মালিকের নাম জানতে পারেননি। তবে আসামি ওই শিক্ষককে শনাক্ত ও তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। মামলার পর তিনদিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করতে না পারায় শিশুর অভিভাবক ও স্বজনদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অবিলম্বে ওই শিক্ষককে শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।