গত ১৭ এপ্রিল উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অনুসারী আরেক পক্ষ আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় ‘লাঞ্ছনার’ বিচারসহ চার দফা দাবিতে পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
সোমবার (৩০ এপ্রিল) সকাল আটটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো প্রশাসনিক ভবনের ফটকগুলোতে তালা ঝুলিয়ে এর সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় উপাচার্যের কার্যালয়। ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি চলছে, যা দুপুর একটা পর্যন্ত চলবে বলে জানান শিক্ষকরা।
এদিকে ঘেরাওয়ের কারণে পুরনো প্রশাসনিক ভবনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার কথা রয়েছে আজ (সোমবার)। কার্যালয়ে ঢুকতে না পেরে তারা বাইরে অবস্থান করছেন।
উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩, স্ট্যাটিউট ও সিন্ডিকেট পরিচালনায় বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে গত ১৭ এপ্রিল সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দেন শরীফপন্থী শিক্ষকরা। এর অংশ হিসেবে সেদিন ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ডিপোতে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। খবর পেয়ে ফারজানাপন্থী শিক্ষকরা তালা খুলতে গেলে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন দু’পক্ষের শিক্ষকরা। এরপর থেকে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করছেন উভয়পক্ষের শিক্ষকরা।
শরীফপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার বলেন, ‘বিধি লঙ্ঘন করে উপাচার্য ৯টি হলে প্রভোস্ট নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সিন্ডিকেটের। উপাচার্য সিন্ডিকেট বিধিও মানছেন না। এসব অনিয়মের প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করতে গেলে আমাদের ছয়জন শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষকরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের বিষয়টি বিবেচনায় রাখেননি। তারা শিক্ষার্থ ও প্রশাসনকে জিম্মি করছেন। আমি উদাত্ত আহ্বান জানাই, তারা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মঙ্গলের জন্য ধর্মঘট, ঘেরাও এসব কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।’
উপাচার্য বলেন, ‘তারা যদি ভেবে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়কে বসিয়ে দেবেন, উপাচার্যকে সরিয়ে দেবেন, তাহলে এটি যুক্তিসঙ্গত হবে না। তারা এক্ষেত্রে বিবেকের পরিচয় দেবেন না।’
প্রসঙ্গত, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি উপাচার্য হিসেবে ফারজানা ইসলাম পুনর্নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হতে শুরু করে। সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবির ও বর্তমান উপাচার্য ফারজানা ইসলাম—এই দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েন তারা।