বজ্রাঘাতে নিহতের ঘটনা বাড়ছেই। আজ মঙ্গলবারও (১ মে)গাইবান্ধা,বগুড়া ও সুনামগঞ্জে বজ্রাঘাতে মা-ছেলেসহ সাত জন নিহত হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে মা বিলকিছ বেগম (৪০) ও ছেলে সোহেল মিয়া (১৮) নিহত হয়েছেন। এসময় বিলকিছের স্বামী আবদুস ছালাম ও আরেক ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (০১ মে) দুপুরে সাঘাটা উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জুমারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রোস্তম আলী জানান, মঙ্গলবার দুপুরে আবদুস ছালাম তার স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি জমিতে বোরো ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। এছাড়া এসময় আবদুস ছালাম ও তার অপর ছেলে গুরুতর আহত হন। আহত বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা সাঘাটা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নয়ন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত দুজনের লাশের সুরতাল রিপোর্ট শেষে দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ: সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে চার কৃষক নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন, জামালগঞ্জ উপজলার ফেনারবাক ইউনিয়নের খুজারগাও গ্রামের কমলাকন্ত তালুকদার (৬০) ভীমখালি ইউনিয়নের কলকতা গ্রামের হিরু মিয়া (৩৪),সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ (৭৪) ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাইফুর রহমানের ছেলে আলম মিয়া (৩৩)।
নিহতরা সবাই হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়াও ধানকাটার সময় আরও তিন কৃষক এবং নদীতে তিন বালু শ্রমিক বজ্রাঘাতে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিন জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, জামালগঞ্জের প্রিন্স তালুকদার, সদর উপজেলার আলমগীর, দেলোয়ার ও আদিব। তাদের মধ্যে আলমগীর ও দেলোয়ারকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জামালগঞ্জ থানার ওসি আবুল হাসেম ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসালম হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ধান কাটার শ্রমিক সংকটের কারণে উপজেলার খোঁজারগাঁওর কৃষক নিজের দু’ছেলে প্রিন্স তালুকদার, সৈকত তালুকদার ও অপর প্রতিবেশী ধান কাটার শ্রমিক জ্ঞান রঞ্জনকে নিয়ে গ্রামের পার্শ্ববর্তী পাগনার হাওরে মঙ্গলবার সকালে নিজের জমিতে ধান কাটতে যান। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আকস্মিক বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে তার শরীর ঝলসে যায়। এ সময় নিহতের দু’ছেলেসহ এক শ্রমিক আহত হন।
এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শরীরের একাধিক স্থান বজ্রপাতে ঝলসে যাওয়ায় নিহতের দুই ছেলে প্রিন্স ও সৈকতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে বজ্রপাতে কৃষক নিহত ও তিন জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে,জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম আল ইমরান বলেন,‘আপাতত নিহতদের দাফনের জন্য ১০ হাজার টাকা নগদ অনুদান দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নিহতের পরিবারকে আরও সরকারি অনুদান দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে এবং আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যয়ভার সরকারের তরফ থেকে বহন করা হবে।
বগুড়া: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় মঙ্গলবার সকালে বজ্রাঘাতে একজন নিহত হয়েছেন।
তার নাম তমিদুল ইসলাম (৪০)। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার মেঘাখদ্দ গ্রামের তবিবর শেখের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান করলা ক্ষেতে নিড়ানি দেওয়ার সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রাঘাতে তিনি নিহত হন।