সম্প্রতি কদমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে কথা হয় শিক্ষিকা শ্যামলী রানী সরকারের সঙ্গে। তিনি ২০০১ সাল থেকে এ বিদ্যালয়ে আছেন। শহরের পোড়রা এলাকা থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ হেঁটে নিত্যদিন সরকারি নিয়ম মেনে স্কুলে আসেন। আর যানও সরকারি রুটিনমাফিক। এর কোনও হেরফের হয় না। বিনাবেতনে নিজের খেয়ে সংসারে সময় না দিয়ে কি জন্য স্কুলে আসেন, জানতে চাই তার কাছে। তিনি বলেন, ‘সংসার সাগরে দুঃখ তরঙ্গের খেলা, আশা তার একমাত্র ভেলা।’ এ কথার ব্যাখ্যা দেন এভাবে, ‘জীবনের চরম বিপর্যয়ের দিনগুলোতেও মানুষ আশায় বুক বাঁধে। সংসার সাগরে একদিকে দুঃখ খেলা করে, অন্যদিকে সে খেলায় টিকে থাকার জন্য মানুষের অবলম্বন আশা। ঠিক আমার মতো আরও তিন শিক্ষকও এভাবে নিজের খেয়ে কোমলমতি শিশুদের লেখাপড়া শেখানো কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।’
শ্যামলী ছাড়া অন্য তিন শিক্ষক শেফালী আক্তার, রেহেনা ইয়াসমিন ও জাহানারা আক্তারের সঙ্গেও কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা নিজেদের বিনাবেতনে চাকরির কথা জানাতে গিয়ে তুলে ধরলেন পৌরসভা এলাকার মধ্যে স্থাপিত বিদ্যালয়টির করুণ চিত্র।
তারা জানান, এক মাস আগেও চারজন শিক্ষক ছিলেন। এক মাস হলো চলতি দায়িত্বে একজনকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের সবাই নারী।
শিক্ষকেরা জানালেন, চার কক্ষের টিনশেড স্কুলের তিন কক্ষে চলে পাঠদান। তিন কক্ষে রয়েছে মোট ১৬ জোড়া বেঞ্চ। দুই শিফটের স্কুলে ক্লাস চলে। ১০ জন যদি বসে থাকে বাকিরা দাঁড়িয়ে ক্লাস করে। এভাবে চলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা।
স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, জাতীয় পতাকা টানানোর জায়গা নেই। বাঁশের কঞ্চির সঙ্গে গাছের মধ্যে জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়েছে।
কথা হয় ওই বিদ্যালয়ের সাব ক্লাস্টার শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে। তিনি জানান, সরকারের তৃতীয় ধাপে স্কুলটি জাতীয়করণ করা হয়েছে। শিক্ষকরা কেন বেতন পাচ্ছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, অর্থ ছাড়ের বিষয়টি তারা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠিয়েছেন। এটা চলমান প্রক্রিয়া। সমাধান অল্প সময়ের মধ্যে হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের ভবন নড়বড়ে, দরজা-জানালা ভাঙা। কবে নাগাদ এসব মেরামত হতে পারে বা বিদ্যালয় ভবনটি পাকা হতে পারে জানতে চাইলে এই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানালেন, এ প্রস্তাবও তারা পাঠিয়েছেন।