ব্লাস্ট সতর্কতার পরও গমের বাম্পার ফলন কুষ্টিয়ায়

গমব্লাস্ট রোগের কারণে গম চাষ থেকে কৃষকদের বিরত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া পরও কুষ্টিয়ায় গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় চাষাবাদে সুবিধা পাওয়া গেছে। গমের বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষি বিভাগ বলছে, ব্লাস্ট রোগের কারণে গম চাষ থেকে কৃষকদের বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হলেও একেবারে নিরুৎসাহিত করা হয়নি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর কুষ্টিয়ায় গম চাষের কোনও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়নি। তবে গম চাষ হয়েছে ৯ হাজার ৩৩৪ হেক্টর জমিতে। হেক্টর প্রতি ৩.৮ মেট্রিক টন গম উৎপাদিত হয়েছে।

জানা যায়, ব্লাস্ট রোগের কারণে কুষ্টিয়াসহ দেশের আট জেলায় গম চাষ থেকে বিরত থাকতে কৃষি বিভাগ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফলে এ মৌসুমে গম চাষের প্রস্তুতি নিলেও বিএডিসি বীজ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন চাষিরা। তবে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির বীজ কিনে গমের আবাদ করেন তারা।

মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মমিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমের দেড় বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ মণ গম উৎপাদন হয়েছে। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।’ একই গ্রামের হাসান আলী বলেন, ‘এখানকার আবহাওয়া গম চাষের উপযোগী। এছাড়া গম চাষ লাভজনক হওয়ায় অন্য ফসলের তুলনায় আমরা গম চাষ বেশি করি।’

দৌলতপুর উপজেলার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ধানের উৎপাদন ব্যয় বেশি এবং দাম কম পাওয়ায় গম চাষের দিকে ঝুঁকেছি। এছাড়া ধানের চেয়ে গমের চাষাবাদ খরচ কম। আর গমের দামও ভালো পাওয়া যায়। তাই গম চাষ করেছি। গম বপনের শুরু থেকে কাটা পর্যন্ত চাষাবাদে কৃষকদের তেমন কোনও বেগ পেতে হয় না। এক বিঘা জমিতে গমের আবাদে খরচ পড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ফলন হয় প্রায় ১৪ থেকে ১৫ মণ।’

সদর উপজেলার কৃষক নাজমুল হোসেন বলেন, ‘গম চাষের শুরু থেকেই যথেষ্ট সজাগ ছিলাম। তাই সময় মতো জমির পরিচর্যা করার ফলে আশাতীত ফলন হয়েছে।’

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ব্লাস্ট রোগের কারণে গম চাষ থেকে বিরত থাকতে নির্দেশনা দেওয়ার পরেও কুষ্টিয়ায় গমের ফলন ভালো হয়েছে। চলতি মৌসুমের হেক্টরপ্রতি ৩.৮ মেট্রিক টন গম উৎপাদিত হয়েছে। বিষয়টি আশাব্যঞ্জক।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ দেবনাথ জানান, ২০১৫ সালে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বেশ কিছু জেলায় গমের ব্লাস্ট রোগ শনাক্ত হয়। এর ফলে কৃষি বিভাগ থেকে গম চাষে বিরত থাকতে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে বারি ২৬ জাতের গম চাষ না করার কঠোর নির্দেশনা ছিল। পরের বছরের বীজ শোধন করে বপনের নির্দেশনা দেওয়া হলেও কিছু কিছু জমির গম আবার এ রোগে আক্রান্ত হয়। গত মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে গমের আবাদ হয়েছিল, ফলনও ছিল ভালো। তবে যেহেতু কৃষি বিভাগের নির্দেশনা ছিল, পর পর তিন মৌসুম গম চাষ করা যাবে না, সেই কারণে এবারও গম চাষে নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন- 

বিএডিসির বীজ সরবরাহ বন্ধ, হতাশ কুষ্টিয়ার গম চাষিরা

কুষ্টিয়ায় বেড়েছে সরিষার চাষ