গাজীপুর সিটি নির্বাচন: বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে প্রচারণা

বৃষ্টির মধ্যেও গাজীপুরে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছেন প্রার্থীরা

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও প্রচার-প্রচারণা চালানোয় সক্রিয় ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা। তাদের সঙ্গে কর্মী-সমর্থকরাও বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের পাশাপাশি অন্যান্য প্রার্থীরাও ছিলেন মাঠের প্রচারণায়।বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে নেমেছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরাও।

বুধবার দিনব্যাপী প্রবল বর্ষণের মধ্যে সারদাগঞ্জ এলাকায় গণসংযোগের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের এই এগিয়ে আসা আমাকে আরও বেশি উৎসাহিত করেছে। স্কয়ারগেট এলাকায় আমার সঙ্গে অনেকে বৃষ্টিতে ভিজেছেন। দোকান থেকে বেরিয়ে এসেছেন রাস্তায়। নৌকার প্রতি মানুষের সমর্থন দেখে আমি অভিভূত। এ দৃশ্য প্রমাণ করে মানুষ নৌকার প্রতি বিশ্বাস রেখেছে।’
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল আলম (আসকর) জানিয়েছেন, ‘অনেক রাস্তা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। অনেক দূর ঘুরে রাস্তা পার হতে হয়। রাস্তার এক পাশ দিয়ে হাঁটলে অপর পাশে যাওয়ার জায়গা থাকে না। নির্বাচনি প্রচারণা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে এ সময়ে মানুষকে জনদুর্ভোগের কথা অনেক সহজে বোঝানো গেছে।’
অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ার কথা উল্লেখ করে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. রেজাউল করিম বলেছেন, ‘বৃষ্টি আমাদের প্রচারণায় কোনও বাধা নয়। গত পাঁচ বছর যে রাস্তাঘাটের কোনও উন্নয়ন হয়নি, সেটি এখন মানুষকে দেখানোর এবং বোঝানোর সুযোগ পাওয়া গেছে।’ বুধবার পানিশাইল, নুর নগর, চক্রবর্তী ও ডালাস সিটি এলাকায় গণসংযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
একই এলাকায় গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মো. কলিম উদ্দিন। মহানগরের লতিফপুর, হাতিমারা, সারদাগঞ্জ, স্কয়ার গেট ও সুলতান মার্কেট এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচারণা চালিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘মার্কেট হওয়ায় এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে গিয়েছি, বৃষ্টির হাত থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া গেছে। তবে বৃষ্টিতে থেমে থেমে গণসংযোগ করতে হয়েছে।’
হাতে বেশি সময় না থাকার কথা জানিয়ে বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও মহানগরের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া বলেছেন, ‘আগামী ১৩ মের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের দাওয়াত নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করেই আমরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি।’ মহানগরের উত্তর সালনা এলাকায় গণসংযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আক্তারুল আলম মাস্টারও বুধবার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচারণায় ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টিতে বিভিন্ন ওয়ার্ডের রাস্তাগুলোয় সাময়িক কাদা-পানি সৃষ্টি হচ্ছে। কাদা-পানি মাড়িয়েই নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন।’
বিএনপি নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সহ-সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু জানান, বৃষ্টিতে ভিজলেও মহানগরের শুকুন্দীরবাগ, পূবাইল তথা ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। বৃষ্টিতে লিফলেট ও জামা-কাপড় ভিজে যাওয়ায় গণসংযোগে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি বাচ্চু।
মহনগরের ২২, ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আঞ্জুমানারা বেগম বলেছেন, ‘আমরা যে পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, এ পদের জন্য ভোটারদের বাড়ি বাড়ি নয়, প্রত্যেক ভোটারের কাছে যেতে হবে। তাই নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টি-রোদ কোনও বিষয় নয়।’
ভোট চাইতে প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার বিষয়ে মহানগরের উত্তর সালনা এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা কামাল পালোয়ান বলেছেন, ‘শুধু বর্ষাকাল নয়, শুষ্ক মৌসুমেও একটা রিকশা আমার বাড়িতে যেতে পারে না। আর এখন দেখি ভোট চাওয়ার জন্য কাদাপানি মাড়িয়ে লোকজন আমার বাড়িতে চলে আসছে। ভোট দেওয়ার সময় এবার হিসেব হবে উন্নয়ন-অনুন্নয়নের।’
একই এলাকার বাসিন্দা গাজীপুরের মেশিন টুলস কারখানার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হাকিম (৬৫)বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা হাতে লিফলেটসহ বেশ কয়েকজন লোক নিয়ে আমার বাড়িতে উঠে এসেছেন। মেয়র পদে ভোট চাইতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মতো মানুষ এখন বৃষ্টিকেও তোয়াক্কা করছে না। বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন তারা।’
সুলতান মার্কেট এলাকার কনেফেকশনারি ব্যবসায়ী মো. মামুনুর রহমান খান বলেন, 'বৃষ্টির মধ্যে প্রচারণায় শুধু প্রার্থীরাই নন, দায়িত্ব পালনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেটরাও আসছেন এলাকায়। তাদের কেউ আমাদের সঙ্গে, আবার কেউ প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলেছেন।'