আটককৃতরা হলো, ময়লাকান্দা এলাকার আনিসুর রহমানের তিন ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল (৩০), সাইফুর রহমান (২৭), সাদিকুর রহমান শাওন (২৫) ও সুরুজ আলীর ছেলে হৃদয় মিয়া।
থানার ইন্সপেক্টর খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের ঘেরাও করে রেখেছে এই খবর পেয়ে পুলিশ ময়লাকান্দা এলাকার আনিসুর রহমানের বাসায় গিয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এসময় ওই বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, দুইটি খেলনা পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সন্ত্রাসীদের আটকের সময় এলাকাবাসীর অনেক সহযোগিতা করেছে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোর্শেদুল আলম জাহাঙ্গীর জানান, সকাল ১১টার দিকে ময়লাকান্দা এলাকার পল্লী চিকিৎসক রাসেলে কাছে চাঁদা দাবি করে আটককৃত এ সন্ত্রাসী গ্রুপ। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা অস্ত্র নিয়ে রাসেলের ওপর হামলা করে। এই ঘটনায় এলাকাবাসী অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য পুলিশকে খবর দিলে কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আনোয়ার হোসেন আসেন। তিনি এসে অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের দেখতে পান এবং কোন ব্যবস্থা না নিয়ে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলে যাওয়ার আগে এলাকাবাসীকে বলেন বিষয়টি মীমাংসা করে ফেলেন। পরে ওই সন্ত্রাসী গ্রুপ বিকেলের দিকে আবারও পল্লী চিকিৎসক রাসেলের ওপর হামলা চালায় এবং মারধোর করে। পরে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে সন্ত্রাসীদের বাড়িঘর ঘেরাও করে রেখে কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে বাড়ির দরজার তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে সন্ত্রাসীদের আটক করে। এসময় এলাকাবাসী বিচার দাবিতে এসআই আনোয়ার হোসেনের ওপর চড়াও হয়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করছেন এসআই আনোয়ার হোসেন।
ওই বাড়ির মালিক আনিসুর রহমানের স্ত্রী শরিফা রহমান জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। গত ৬ মাস আগে এখানে জমি কিনে একতলা ভবনের বাড়ি করে বসবাস করছিলেন। তার তিন পুত্র সস্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত স্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ছেলেদের জন্যই কিশোরগঞ্জ ছেড়ে এখানে এসে বাড়ি করেছি। এখানেও তার ছেলেরা শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। আইনী ভাবে ছেলেদের শাস্তি দাবি করেছেন মা শরিফা।
ময়মনসিংহ সদর সার্কেলের এডিশনাল এসপি আল-আমীন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সন্ত্রাসীদের সাথে পুলিশের কোন সম্পর্ক নেই। তবে কেউ যদি তাদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে থাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তারা।