খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক এলাকার উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এদিকে নাগরিক শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ১৪ দলের মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, ‘সিটি করপোরেশনের বয়সের অধিকাংশ সময়জুড়ে বিএনপির মেয়র থাকলেও নগরীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। নগরীর যা কিছু দৃশ্যমান তা আমি দায়িত্বে থাকাকালে (২০০৮-১৩) হয়েছে। উন্নয়নের জন্য নগরবাসী আজ ঐক্যবদ্ধ। শহরজুড়ে নৌকা প্রতীকের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নৌকার গণজোয়ার দেখে বিএনপি আজ দিশেহারা। পরাজয়ের ভয়ে তারা নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।’ তাই দলমতের ঊর্ধ্বে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে নগরীর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বুঝে নিতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনের দরজা সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘নাগরিকদের ইচ্ছায় সিটি করপোরেশন পরিচালিত হবে।’ সিটি করপোরেশনকে নাগরিক শাসনভিত্তিক জবাবদিহিতামূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে তিনি নগরবাসীর সমর্থন ও রায় প্রত্যাশা করেন।
শুক্রবার (৪ মে) তালুকদার আব্দুল খালেক দৌলতপুর এলাকায় ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু বাগমারা এলাকায় নির্বাচনি গণসংযোগকালে এসব কথা বলেছেন।
তালুকদার আব্দুল খালেক শুক্রবার নগরীর দৌলতপুরের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন। সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি দৌলতপুর মহসিন মোড় থেকে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন। এরপর দৌলতপুর কাঁচাবাজার, পাইকারি বাজার, মাছ বাজার, রেললাইনসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। এসময় তিনি ভোটারদের সঙ্গে সালাম ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ভোটারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এসময় আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী বলেন, ‘দৌলতপুর বাজারটি অনেক পুরাতন হওয়া সত্ত্বেও তেমন কোনও উন্নয়ন হয়নি। এবার আমি মেয়র নির্বাচিত হলে বাজারের ব্যবসায়ীদের পরামর্শ নিয়ে বাজারটির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
অপরদিকে নজরুল ইসলাম মঞ্জু নির্বাচন উপলক্ষে নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাগমারা ব্রিজ, মিস্ত্রিপাড়া বাজারসহ সংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ ও জনগণের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয় তার গণসংযোগ। এসময় তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘নগরীতে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হওয়ায় শাসক দলের মনে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। নিশ্চিত পরাজয় যেনে তারা যেনতেন উপায়ে নৌকা মার্কাকে ভোটে জেতাতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যরাই নিজে উপস্থিত থেকে সব কিছু মনিটর করছেন। পুলিশ ও দলীয় ক্যাডারদের লেলিয়ে দিয়ে ধানের শীষের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার এবং বাড়ি-ছাড়া করা হচ্ছে। হামলায় আহত করে আবার মিথ্যা মামলার আসামি করা হচ্ছে। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধ্য করা হচ্ছে নৌকার পক্ষে কাজ করতে। এসব ঘটনা প্রমাণ করছে- এই সরকার ও শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে দেশে কোনও নির্বাচন হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা মনে করছে হামলা চালিয়ে, মামলা দিয়ে, গণগ্রেফতার করে বিএনপির কর্মীদের মাঠ ছাড়া করবেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। সিটি নির্বাচনের ভোটের ফলাফল বুঝে না নিয়ে বিএনপির একজন কর্মীও ঘরে ফিরবে না।’