বৃহস্পতিবার নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে হত্যা এবং শুক্রবার ব্রাশফায়ারে নিহত পাঁচজনের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি। নিহতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবির সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, ‘ইতোমধ্যে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্নের পর মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
এদিকে শুক্রবার নিহত পাঁচজনের মধ্যে মো. সজীবকে বরিশাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া নিহত আরও দুইজন সুজন চাকমা ও সেতুলাল চাকমাকে তাদের পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের মহালছড়িতে নিজেদের গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি দুইজন ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক এর আহ্বায়ক তপন জ্যোতি চাকমা বর্মা ও তনয় চাকমার লাশ এখনও খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে আছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার দুপুরে হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নানিয়ারচর উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় আহত আটজনের মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা হলেন খাগড়াছড়ির মুঙ্গাছড়ির লক্ষ্মীপুর চাকমার ছেলে অর্জুন চাকমা (২৪), মহালছড়ির ২৪ মাইল এলাকার রাজ চাকমার ছেলে দিগন্ত চাকমা, দেওয়ানপাড়ার কদম চান চাকমার ছেলে মিহির চাকমা ও বনমোহন চাকমার ছেলে অরসিং চাকমা। এছাড়া খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে আরও চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (৩ মে) বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) নেতা শক্তিমান চাকমা। শুক্রবার (৪ মে) তার শেষকৃত্যে যাওয়ার পথে নানিয়ারচর-মহালছড়ি সীমান্তের কেংড়াছড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ারে নিহত হন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর আহ্বায়ক তপনজ্যোতি চাকমা বর্মাসহ আরও পাঁচজন। এতে গুলিবিদ্ধ হন আটজন।
ইউপিডিএফের গণতান্ত্রিক এর মিডিয়া উইংয়ের দায়িত্বে থাকা লিটন চাকমা বলেন, ‘শক্তিমান চাকমাকে হত্যার পর তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাকে হত্যার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে একক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য ইউপিডিএফ একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে।’
অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা) শীর্ষ নেতা সুদর্শন চাকমা বলেন, ‘আগে থেকেই আমাদের দলের শীর্ষ নেতা শক্তিমান চাকমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল ইউপিডিএফের সন্ত্রাসীরা। তারা পাহাড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার জন্য মূলত এমন হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে।’
অপরদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ মন্তব্য করে ইউপিডিএফের অন্যতম সংগঠক মাইকেল চাকমা বলেন, ‘আমরা মানুষ হত্যায় বিশ্বাসী নই। কোনও মানুষ এভাবে মৃত্যুবরণ করুক এটা আমরা চাই না। এ সব ঘটনার সঙ্গে আমাদের সম্পৃক্ততা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মার কোনও দল নেই। সে একজন সন্ত্রাসী। সন্ত্রসী হওয়ার ফলে তার অনেক শত্রু থাকতে পারে। তারাই এমন কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে আমাদের ধারণা।’
আরও পড়ুন-
রাঙামাটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ইউপিডিএফের পাঁচ সদস্য নিহত, গুলিবিদ্ধ ৯
শেষকৃত্যে যোগ দিতে গিয়ে লাশ হলেন তারা
'ইউপিডিএফ নেতাদের নির্দেশে লক্কোচ চাকমা হত্যা করে শক্তিমানকে'