আইনজীবী রথিশ হত্যা: যে কারণে চার্জশিটে দেরি

 



রথিশ চন্দ্ররংপুরের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আইনজীবী রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনা হত্যার মূল আসামি স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও তার প্রেমিক কামরুল ইসলামকে গ্রেফতারের পর তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এক মাসের বেশি সময় হতে চললো। তবে এখনও এ হত্যা মামলায় চার্জশিট দিতে পারেনি পুলিশ। জানা গেছে, ডিএনএ ও ভিসেরা প্রতিবেদন না পাওয়ায় আদালতে চার্জশিট জমা দিতে দেরি হচ্ছে। ফলে বিলম্বিত হচ্ছে বিচার শুরুর প্রক্রিয়া।



মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মুখতারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা তদন্তে কোনও ত্রুটি রাখতে চাই না। খুনিদের গ্রেফতারের পর তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এখনও ডিএনএ রিপোর্ট আর ভিসেরা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পেলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।’
রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক অ্যাডভোকেট এ বিষয়ে বলেন, ‘রথিশ চন্দ্র জনপ্রিয় এবং খ্যাতিমান আইনজীবী। আমরা চাই মামলার দ্রুত বিচার করে দোষিদের শাস্তি দেওয়া হোক।’ একই দাবি জানান, রংপুর পুজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বনমালী পাল।
এদিকে মামলার বাদী নিহত আইনজীবী রথিশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনার ছোট ভাই সাংবাদিক সুশান্ত ভৌমিক বলেন, ‘আমার ভাই নিহত হওয়ার পর থেকে আমার একমাত্র ভাতিজি অরিশ্রী আমার কাছেই আসে। সে নবম শ্রেণিতে পড়ে। তার লেখাপড়াসহ সার্বিক দায়িত্ব আমারাই পালন করছি। আমার ভাতিজা দীপ্ত ভৌমিক ঢাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে লেখাপড়া করছে। আমরা কখনই কল্পনাই করিনি আমার ভাইকে হত্যা করতে পারে বৌদি। আমরা এই ঘটনায় দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যার পর পুলিশ জানতে পারে বিশেষ পিপি রফিশ চন্দ্র বাসা থেকে সকালে বের হয়ে যাওয়ার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নগরীর আলমনগর বাবু পাড়ার রথিশের বাসায় গিয়ে তারা তার স্ত্রী দীপা ভৌমিকসহ স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপরেই পুলিশ রথিশের মোবাইল ফোন আর তার স্ত্রী দীপা ভৌমিকের ফোনের কল লিস্ট পরীক্ষা করে দেখতে পান দীপা ভৌমিক আগের দিন ২৯ মার্চ রাত থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত তার প্রেমিক এবং তাজহাট স্কুলের সহকারী শিক্ষক কামরুলের সঙ্গে ৩৩ বার কথা বলেছেন। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তা দীপা ভৌমিকের সঙ্গে কথা বলে তাদের মাঝে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। মোবাইল কল লিস্ট পরীক্ষা করে দেখা যায় ৩০ মার্চ নয়, ২৯ মার্চ রাত ১০টার পর থেকে রথিশের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। এরপরেই দীপা ভৌমিকের প্রেমিক স্কুল শিক্ষক কামরুলকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। অর্থাৎ ঘটনার দু দিনের মাথায় পুলিশ নিশ্চিত হয়, ঘটনার সঙ্গে আইনজীবীর স্ত্রী জড়িত।