বুধবার (৯ মে) গাজীপুর জেলা নির্বাচন অফিস পরিদর্শন ও পরে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভাশেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, ‘এখানে রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। এজন্যই এখানে আমাদের আসা। তারা প্রত্যেকেই বলেছেন ১৫ মে ভোটগ্রহণ সম্ভব না। পুলিশ সুপার বলেছেন, ১০ থেকে ১১ হাজার পুলিশ সদস্য এখানে মোতায়েন করতে হবে। ৬০০ গাড়ি রিকুইজিশন দিতে হবে। বিভিন্ন জেলা থেকে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে হবে। সাড়ে আট হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এই কাজগুলো এই সময়ের মধ্যে করা আমি অসম্ভব মনে করি। আগামীকাল যদি সিদ্ধান্ত হয় তাহলে আমাদের ভোটের তারিখ পরিবর্তন করতে হবে।’
নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনও ব্যর্থতা নেই বলে মন্তব্য করেন সিইসি। তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক নিয়মে আইনের আলোকে আমরা নির্বাচন করি। স্থানীয় সরকারের অনুরোধে শুধু আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করি। স্থানীয় সরকার বিভাগ যখন আমাদের চিঠি দিয়ে জানায় যে তাদের কোনও অসুবিধা নেই, তখনই কেবল আমরা তফসিল ঘোষণা করি। তাদের সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে বা কোনও আইনি জটিলতা আছে কিনা সেটা তারা পরীক্ষা নিরীক্ষা করেই আমাদের বলেন আপানারা এখন নির্বাচন করেন। যখন তাদের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাই, তখন আর অন্য কিছু দেখার প্রয়োজন মনে করি না বা সুযোগও থাকে না।’
তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগকে আমাদের জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন হয় না যে সীমানা নির্ধারণ ঠিক আছে কি নাই। তবু গাজীপুর, খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের সময় তাদের আলাদা চিঠি দিয়েছি। সীমানা নিয়ে কোনও জটিলতা আছে কিনা, কোর্টে কোনও পেন্ডিং আছে কিনা, কোনও বিষয় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে কিনা, এগুলো জানতে চেয়েছি। তখন তারা পরিষ্কার চিঠি দিয়েছে, কোথাও কোনও বিভেদ নেই, সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত কোনও সমস্যা নেই। তখনই আমরা তফসিল ঘোষণা করেছি। আমাদের কোথাও কোনও গাফিলতি নেই।’
নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিয়মের ব্যাপারে সিইসি বলেন, ‘পরিষদের মেয়াদ শেষ, সীমানা নির্ধারণ শেষ এবং ভোটার তালিকা তৈরি করা পরিপূর্ণ হলে তার ভিত্তিতে নির্বাচন হয়। এটাই নিয়ম।’
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিতে আপিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট স্থগিত আদেশের পর উকিল নিয়োগ করেছি আপিলের জন্য। আজ (বুধবার) আবেদন করার কথা।’
জাতীয় নির্বাচনে এমন সমস্যা হলে তা মোকাবিলার উপায় জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের একটা বাঁধা সময় থাকে। তার বাইরে যাওয়া যাবে না। ওই নির্বাচন সরকারের মেয়াদ পূর্তির আগে ৯০ দিনের মধ্যেই করতে হবে। এ রকম সমস্যা জাতীয় নির্বাচনে হবে না। হলেও আদালত তা বুঝবেন।’
প্রসঙ্গত, সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতা বিষয়ে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবিএম আজাহারুল ইসলাম সুরুজের দায়ের করা রিট আবেদন বিবেচনা করে হাইকোর্ট গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন স্থগিতের আদেশ দেন। এরপর থেকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। হাইকোর্ট রুলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজাকে অন্তর্ভুক্ত করা কেন বেআইনি হবে না—তা চার সপ্তাহের মধ্যে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সিইসির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জিসিসি নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার রকিব উদ্দিন মন্ডল, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের ভোটর গ্রহণ হওয়ার কথা ছিল ১৫ মে। ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত। নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬।
আরও পড়ুন- জিসিসি নির্বাচন: সময় চেয়েছে ইসি, শুনানি বৃহস্পতিবার