খুলনায় মঞ্জুর পক্ষে প্রচারণায় জামায়াত, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

প্রচারণায় মঞ্জুর ঠিক পিছনেই জামায়াত নেতা শাহ আলম (ছবি- প্রতিনিধি)

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ও ২০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণায় নেমেছে জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (১০ মে) মহানগরীর দারোগাপাড়া এলাকায় মঞ্জুর সঙ্গে জামায়াতের নেতাকর্মীকে প্রচারণায় দেখা যায়। এ নিয়ে নগরবাসীর অনেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দারোগাপাড়ায় গণসংযোগ করেন মঞ্জু। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শাহ আলম ও দলটির একদল নেতাকর্মী। এসময় মঞ্জুর পক্ষে জামায়াত নেতা শাহ আলম ভোট চান নগরবাসীর কাছে।

এ ব্যাপারে শাহ আলম বলেন, ‘২৪ এপ্রিল থেকে মঞ্জুর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছি। কেন্দ্র থেকে জোটের নির্দেশনা মেনে আমি মঞ্জুর পক্ষে প্রচারণায় নেমেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পাঁচ কাউন্সিলর পদে বিএনপির কাছ থেকে জামায়াত সমর্থন চেয়েছিল। কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলের সিদ্ধান্ত না মানায় বিএনপি ওই ওয়ার্ডগুলো উন্মুক্ত ঘোষণা করে, যা জামায়াত প্রার্থীদের জন্য ভালো ফল দেবে বলে আমি মনে করছি। কারণ ওই ওয়ার্ডগুলোতে বিএনপি দ্বিধাবিভক্ত।’

এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক সামছুজ্জামান চঞ্চল বলেন, ‘বিএনপি মেয়রপ্রার্থীর পক্ষে জামায়াত প্রকাশ্যেই প্রচারণায় নামছে। ২০ দলীয় জোটের নেতারা বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে মাঠে রয়েছেন, জামায়াতও ২০ দলের অংশ।’

প্রচারণায় মঞ্জুর পিছনেই জামায়াত নেতা শাহ আলম (ছবি- প্রতিনিধি)

এদিকে, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে জামায়াত প্রকাশ্যে প্রচারণায় নামায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খুলনার কয়েকজন সাংবাদিক ও নগরের অনেক বাসিন্ধা।

খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘যে রাজনৈতিক দল মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি বাংলাদেশিদের নিধনে অংশ নিয়েছিল, সে দলের নেতাকর্মীরা বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা দুঃখজনক। যারা দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, তাদের সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নির্বাচনের মাঠে নেমেছে। এটা মানতে কষ্ট হয়।’

খুলনা জজ কোটের পিপি কাজী আবু শাহিন বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি নিবাচনের প্রচারণায় থাকবে, এটা স্বাভাবিক ঘটনা। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি সময়ই একজোট। এতে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির হতাশারা কিছু নেই। সাধারণ জনগণ এদের ভাল করেই চেনে ও জানে। জনতার সমর্থন নিয়েই এদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে।’

খুলনার নাগরিক নেতা হুমায়ুন কবির ববি বলেন, ‘বিএনপি আগে থেকেই যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে জোটবেধে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কাজে জড়িত। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর করার মধ্যদিয়ে আদালত জামায়াতকে মানবতাবিরোধী দল হিসেবে চিহ্নিত করে দিয়েছেন। বিএনপির ব্যাপারে জনতাকে সতর্ক থাকতে হবে। জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে তারা যেন ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভ্রান্ত করতে না পারে।’