হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৬ তলা ভবনের ওপরে ওঠার জন্য বেশ কয়েকটি লিফট রয়েছে। এর মধ্যে ৩-৪টি ছাড়া বাকি লিফটগুলো সারা বছর ধরেই বন্ধ থাকে। লিফটগুলো নষ্ট হয়ে পড়ায় চালু করা যায় না। গত ১০ বছর ধরে লিফটগুলো ভালো করার ব্যাপারে বিভিন্ন তৎপরতা চলছে। অথচ প্রতি বছর লিফট ভালো করার জন্য গণপূর্ত বিভাগ বিপুল পরিমান টাকা খরচ দেখায়।
এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার হাসপাতালের ৯ টি লিফট মেরামত ও সংস্কারের জন্য অর্থাৎ নষ্ট হওয়া লিফট মেরামত করে নতুন করে যন্ত্র প্রতিস্থাপন করে সচল করার জন্য ৫২ লাখ টাকার টেন্ডার আহ্বান করে রংপুর গণপূর্ত বিভাগ।
হাসপাতালে গিয়ে সরজমিনে দেখা যায়, লিফটের দরজাগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি করে রঙ-চং করে আবারও সেগুলোই লাগানো হচ্ছে। আর আগে থেকে থাকা ভেতরের পুরাতন স্প্রিংসহ অন্যান্য যন্ত্রগুলো রঙ করে কোনও রকমে লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩টি লিফট চালু করা দেখানো হলেও তা বেশির ভাগ সময় বন্ধ রাখা হয়। কারণ, লিফটগুলো সচল হয়নি। কোনও রকমে জোড়াতালি দিয়ে সচল দেখানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে দু’জন কর্মকর্তা জানান, তড়িঘড়ি করে লিফট রিপেয়ার অ্যান্ড রিনোভেশন কাজ করে বরাদ্দ করা ৫২ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার পায়তারা করা হচ্ছে। কাজের মান সম্পর্কে হাসপাতালের কর্মকর্তা ও সাধারণ কর্মচারীরা অভিযোগ করলেও আমলে নিচ্ছেন না গণপুর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।
হাসপাতালে রোগী দেখতে আসা কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর মমতাজ বেগম জানান, ১০ দিন ধরে হাসপাতালে যাতায়াত করা হলেও একবারের জন্যও লিফটে ওঠার সুযোগ হয়নি। যে ৩-৪টি লিফট আছে, সেগুলোর দু’টি ছাড়া বাকিগুলো বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে। তাছাড়া লিফটম্যান টাকা ছাড়া রোগী বা তাদের স্বজনদের নিতে চায় না। একই অভিযোগ পঞ্চগড় থেকে আসা বৃদ্ধ সোলেমান মিয়াসহ আরও অনেকের।
এ ব্যাপারে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অফিসিয়াল কাজে ঢাকায় আছেন তিনি। লিফটের ব্যাপারে তিনি আরও বলেন, ‘এসব কাজ গণপূর্ত বিভাগ দেখভাল করে, তারাই বলতে পারবে কাজের অবস্থা।’ তবে কাজে অনিয়ম হচ্ছে বলে তিনি শুনেছেন বলেও জানান। ঢাকা থেকে ফিরে তাদের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলবেন বলেও জানান ডা. অজয় রায়।
রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৫২ লাখ টাকা ব্যায়ে ৯টি লিফট রিপেয়ার অ্যান্ড রিনোভেশনের কাজ চলছে। লিফটগুলো মেরামত এবং এর মেশিনগুলো পরিবর্তন করে ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় এবছর দু’টি নতুন লিফট স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। লিফটের কাজে অনিয়ম হচ্ছে বলে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমন কোনও অভিযোগ পাইনি।’ এদিকে রংপুর জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন হাসপাতালে লিফট মেরামতের বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত দাবি করেছেন।