কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের বিপুলাসার উত্তর বাজার এলাকায় পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. নোমান হোসেনকে বেত দিয়ে পিটিয়ে ও শরীরে গরম পানি ঢেলে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক এমদাদ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১০ মে) রাতে উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের মান্দুয়ারায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার বিকালে মনোহরগঞ্জ থানার নাথেরপেটুয়া তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক জামির হোসেন জিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নির্যাতিত শিক্ষার্থী নোমান উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নের ছোট কাঁচি গ্রামের ভ্যানচালক খোরশেদ আলমের ছেলে।
নাথেরপেটুয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জামির হোসেন জিয়া জানান, শিশু নোমানকে নির্যাতনের ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে বৃহস্পতিবার রাতে মনোহরগঞ্জ থানা পুলিশের পক্ষে নাথেরপেটুয়া তদন্তকেন্দ্রের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আশ্রাফুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই শিক্ষককে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই দিন রাতে শিক্ষক এমদাদের নিজ গ্রাম উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের মান্দুয়ারায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
উল্লেখ্য, এমদাদ হোসেন উপজেলার বিপুলাসার উত্তর বাজার এলাকার আবু তাহেরের একতলা বাড়ি ভাড়া নিয়ে মোহাম্মদীয়া হাফেজীয়া মাদ্রাসা চালান। এ মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী নোমান। এমদাদ হোসেনের বাধা উপেক্ষা করে গত ৮ মে নোমানের সঙ্গে মাদ্রাসায় দেখা করতে যান তার বাবা-মা। এরপর শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেতের আঘাতের দাগ দেখতে পান তারা। এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে নোমান তার বাবা-মাকে জানায়, এমদাদ হোসেন তাকে বেত দিয়ে পিটিয়ে ও শরীরে গরম পানি ঢেলে নির্যাতন করেছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে নোমানের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান এমদাদ।