বিএনপির আমলে ১৩ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী চাকরি হারিয়েছে: রেলপথ মন্ত্রী

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন করছেন রেলপথ মন্ত্রী

রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেছেন,‘বিগত বিএনপি সরকারের আমলে বাংলাদেশ রেলওয়ে ছিল অবহেলিত। সে সময় রেলওয়ের উন্নয়নে কোনও রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরঞ্চ ১৩ হাজার শ্রমিক কর্মচারীকে গোন্ডেল হ্যান্ডশেকের নামে চাকুরিচ্যূত করা হয়েছিল। শনিবার (১২ মে) দুপুরে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনের সময় কারখানার সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর রেলওয়ের জন্য পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করেছে। বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সরকার সারাদেশে রেলওয়ের নতুন নতুন লাইন স্থাপন করছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে বিদেশ থেকে নতুন নতুন কোচ ও ইঞ্জিন আমদানি করা হচ্ছে। নিরাপদ ও আরামদায়ক হওয়ায় এখন ট্রেনের যাত্রী সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেবা বাড়াতে এরইমধ্যে ৮ হাজার জনবল নিয়োগ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন,‘ইদুল ফিতরের আগে রেলপথে যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ৯০টি যাত্রীবাহি কোচ মেরামত করা হবে। ওই কারখানায় মেরামত করা ১৪টি কোচ দিয়ে শিগগিরই লালমনিরহাট-ঢাকা আরও  একটি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় ঋণে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার আধুনিকায়নসহ নুতন কোচ তৈরির কারখানা নির্মাণ করা হবে। আগে রেলওয়ে খাতে বার্ষিক বরাদ্দ ছিল ৫শ’ কোটি টাকা। এখন এ বরাদ্দ ১৬ হাজার ১৩২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ’

এর আগে মন্ত্রী কারখানার ক্যারেজ সপে স্থাপিত এয়ার ব্রেক সেকশনের ফিতা কেটে শুভ উদ্বোধন করেন। পরে কারখানার ক্যারেজ শপসহ অন্যান্য শপ মেরামত করাসহ কোচগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে কারখানার ভেতরে পাকবাহিনীর হাতে নিহত শহীদদের স্মরণে নির্মিত ‘অদম্য স্বাধীনতা’ বেদীতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বাংলদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (জিএম) মো. আমজাদ হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচারক (আরএস) মো. শামসুজ্জোহা, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার মো. রমজান আলী, প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (পশ্চিমাঞ্চল) মো. বেলাল হোসেন সরকার, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মুহাম্মদ কুদরত-ই- খুদা প্রমুখ।