সৎ ভাইকে ৬০ শতাংশ জমি লিখে না দেওয়ায় টাঙ্গাইলে স্কুল শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রী কল্পনা রানীকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে তার সৎ ভাই স্বপন কুমার দাসসহ ছয়জন অংশ নেয়। শুক্রবার (১৮ মে) দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান।
তিনি আরও জানান, তারা প্রথমে অনিল কুমার দাসকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্ত্রী কল্পনা রানী ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে উভয় লাশের গলায় ইটের বস্তা বেঁধে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের খোলা কূপে ফেলে দেওয়া হয়। প্রায় নয় মাস পর এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বেড়িয়ে এসেছে।
পুলিশ সুপার বলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক অনিল কুমার দাসের পার্শ্ববর্তী বিক্রমহাটী এলাকায় ৬০ শতাংশ জমি রয়েছে। সেই জমি আত্মসাৎ করার জন্য তার সৎ ভাই স্বপন কুমার দাস ওরফে স্বপন সৌমিত্র এ পরিকল্পনা করে। তার সঙ্গে যোগ দেয় রসুলপুর এলাকার কয়েকজন মাদকসেবী। তারা সবাই মিলে পরিকল্পনা করে কিভাবে জমি অনিল কুমার দাসের কাছ থেকে লিখে নেওয়া যায়। এ কাজ করতে পারলে স্বপন সৌমিত্র তার সহযোগীদের পাঁচ লাখ টাকাসহ জমি বিক্রির অর্ধেক দিবে বলে জানায়। ঘটনার দিন ছয় জন অনিল কুমার দাসের বাড়ি গিয়ে তিনটি দলিলে স্বাক্ষর দিতে বলে। কিন্তু তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাস দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। পরে তাদের লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের অব্দুস সালামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩২), মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন (৪৮), একই এলাকার মৃত আমির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (৩৩) এবং রসুলপুর শালিনাপাড়ার বাহাজ উদ্দিনের ছেলে মনজুরুল ইসলাম মিনজু (৩৩)। এছাড়াও নিহত অনিল কুমার দাসের সৎ ভাই স্বপন সৌমিত্রকেও গ্রেফতার করা হয়। পরে স্বপন সৌমিত্র জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গত ১২ মে গ্রেফতার হওয়া রসুলপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও ফরহাদ হোসেন টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দিতে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশ ১৪ মে রসুলপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান ভুইয়া ওরফে খোকন ভুইয়া ও শালিনাপাড়া গ্রামের মনজুরুল ইসলাম ওরফে মিনজুকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় তাদের প্রত্যেকের দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলে আদালতের বিচারক রুপম কান্তি দাস তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, হত্যা মিশনে ছয়জন সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুজন আসামিকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নিহত অনিল কুমার দাসের সৎ ভাই স্বপন সৌমিত্র জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।
উল্লেখ, ২০১৭ সালের ২৬ জুলাই রাতে ওই হত্যাকাণ্ডে শিকার হন অনিল কুমার ও তার স্ত্রী। পরদিন দুপুরে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। পরে ২৭ জুলাই নিহতের ছেলে বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।