শত্রুতার আগুনে পুড়লো ১৫ ভূমিহীন পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই!

পুড়ে যাওয়া বসতঘর (ছবি- প্রতিনিধি)

বাগেরহাটের শরণখোলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাধাল গ্রামে ধানের খড়, কাঠ, বাঁশ ও গোলপাতা দিয়ে ঘর তুলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বাস করতেন ১৫ দিনমজুর। গত প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরেই ভূমিহীন পরিবারগুলো এখানে বসবাস করছিল। কিন্তু শুক্রবার (১৮ মে) দিনগত রাত প্রায় ৪টার দিকে এ পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার সেই ঠাঁইটুকু আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, জমির দখল নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ফরিদ খান ও মহারাজ হাওলাদারের মধ্যে শত্রুতা রয়েছে। আবার এই দুই জনই ওই ভূমিহীন পরিবারের সদস্যদের নিজেদের প্রতিপক্ষ মনে করে আসছে। এর জেরে ফরিদ খান বা মহারাজ হাওলাদারের পক্ষের লোকজন ওই ১৫ পরিবারের ২৫টি বসতঘর পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে।

পুড়ে যাওয়া বসতঘর (ছবি- প্রতিনিধি)

পুলিশ জানায়, আগুন দেওয়ার ঘটনায় তিন নারী আহত হয়েছেন। পরিবারগুলোর বাকি সদস্যরা আগুন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের বাইরে চলে আসায় বড় ধরনের কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনার পর থেকে ওই ভূমিহীন পরিবারগুলোর নারী ও শিশুরা খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। আর পুরুষরা গ্রেফতারের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৪ সালে খোন্তাকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ বাধাল গ্রামের অর্পিত সম্পত্তি গরিব মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের নামে বরাদ্দ দেয় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। যাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয় তারা ওই জমিতে না থেকে এলাকার ভূমিহীনদের সেখানে ঘর করে থাকার অনুমতি দেন। এরপর থেকে ওই ১৫ পরিবার সেখানে ঘর তুলে বসবাস শুরু করে।

পুড়ে যাওয়া বসতঘর (ছবি- প্রতিনিধি)

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েক জন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, একটা সময় ওই অর্পিত সম্পত্তি জোর করে দখল করে রেখেছিলেন ফরিদ খান। আর বর্তমানে ওই অর্পিত সম্পত্তি নিজের বলে দাবি করে আসছেন মো. মহারাজ হাওলাদার। এ নিয়ে এই দুই জনের মধ্যে বিরোধ ছিল। এর জের ধরে এদের দুই জনের কেউ একজন ভূমিহীন পরিবারগুলোর বসতঘরে আগুন দিয়েছে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবিরুল ইসলাম শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘শুক্রবার দিনগত রাতে ওই বসতঘরগুলোতে আগুন দেওয়া হয়। আগুনে সবগুলো বসতঘরই পুড়ে গেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’ ফরিদ খান ও মহারাজ হাওলাদার আগুন দেওয়ার ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে বলেও জানান তিনি।