উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএইচ এম বোরহান উল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, ‘১০ দিনের ব্যবধানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ২৩ জনের মধ্যে তিনজন মারা গেছে। আক্রান্ত এলাকায় উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের একটি মেডিক্যাল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে। এছাড়াও ডায়রিয়া আক্রান্ত এলাকায় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর), ঢাকা থেকে চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সমন্বয়ে গঠিত একটি আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন টিম পাঁচ দিন ধরে কাজ শেষে সোমবার বিকালে ঢাকায় ফিরে যাবে। তারা পানি ও মলের স্যাম্পল সংগ্রহ করেছে। স্যাম্পল পরীক্ষার পর তাদের প্রতিবেদন পেলেই রোগ আক্রান্তের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
বেগমগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন জানান, উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের আফতাবগঞ্জ মিয়াজীপাড়ায় আকস্মিকভাবে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে একই পরিবারের বছর উদ্দিন (৭০), তার নাতনি নাছরিন বেগম (৭) এবং ২২ দিন বয়সের নাতি সুমন মিয়া মারা যায়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার পর বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে গ্রামটিতে ৬টি নলকূপ, ১৫টি স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম জানান, ‘এক সপ্তাহ আগে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি ঢাকা থেকে আসা চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল টিম কারণ জানতে পানি ও মলের নমুনা সংগ্রহ করে সোমবার বিকালে ঢাকায় ফিরে যাবে। সেখানে গিয়ে পরীক্ষার পরই আক্রান্তের প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, বিশুদ্ধ পানি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে।’
আরও পড়ুন- অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরি, ৩০ হাজার টাকা জরিমানা