সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের পক্ষে ওভারব্রিজের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আল আমিন কন্সট্রাকশনের চেয়ারম্যান কবির আহমদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওভারপাসের চট্রগ্রামমুখী অংশটি খুলে দেওয়া হবে। এর ফলে ঈদের আগে এ মহাসড়ক ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি কমবে, ত্বরান্বিত হবে বাণিজ্য।’
ওভারব্রিজের নির্মাণকাজের কারণে সম্প্রতি ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এমন পরিস্থিতিতে ১৪ মে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। একপর্যায়ে ঢাকামুখী দু’টি লেনের মধ্যে একটি ১৫ মে আরেকটি ২০ মে খুলে দেওয়া হয়।
এদিকে, গত রবিবার (২৭ মে) নির্মাণাধীন এ ওভারপাসের কাজ পরিদর্শন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নির্মাণকাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মন্ত্রী এ জন্য সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডকে ধন্যবাদ দেন। একইসঙ্গে ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি কমাতে ঈদের আগে আগামী ৫ জুন একটি লেন ও দ্বিতীয়টি ঈদের আগে ১৫ জুন খুলে দেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবার এ মহাসড়কে কোনও দুর্ভোগ পোহাতে হবে না কাউকে।’
বুধবার (৩০ মে) নির্মাণাধীন ওভারব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে দ্রুত কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা। এই সময় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের সদস্যরা কাজের মান নিয়ন্ত্রণ ও সময়মতো কাজ বুঝে নিতে মাঠে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করছেন। ওভারব্রিজ নির্মাণকাজ নিয়ে কথা হয় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের সদস্যদের সঙ্গে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেনা সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ইতোমধ্যে কাজের আগ্রগতি দেখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ মেজর জেনারেল ছিদ্দিকুর রহমান সরকার, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন বিগ্রেডের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল রেজাউল মজিদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জাকারিয়া হোসেন, প্রকল্প পরিচালক লে. ক. রোমিও নওরিন কয়েক দফা সরেজমিনে এসেছেন এবং তারা সাবক্ষণিকভাবে কাজের প্রতিদিনের আগ্রগতি নিয়ে কথা বলছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কীভাবে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে সে ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দিচ্ছেন।
নির্মাণ প্রতিষ্ঠান আল আমিন কন্সট্রাকশনের চেয়ারম্যান কবির আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাকি কাজ শেষ হয়ে যাবে।’
আল আমিন কন্সট্রাকশনের প্রকল্প প্রধান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, ওভারপাসটির দৈর্ঘ্য ৮৬ দশমিক ৭৯ মিটার, অ্যাপ্রোচ রোড়ের দৈর্ঘ্য ৭৫৫ মিটার, এর মধ্যে ঢাকার দিকে ৩৪৭ মিটার, চট্টগ্রামের দিকে ৪০৮ মিটার, সর্বমোট গার্ডার ৩০টি, পিলার ৮টি, পাইল ৪৯০টি। প্রকল্প ব্যয় ১০৫ কোটি ৭ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতায় মহাসড়কের এই অংশে যানজট ছিল প্রতিদিনের।এতে মহা ভোগান্তিতে পড়তে হয় গাড়ির চালকসহ যাতায়াতাকারীদের। অবশেষে ১৫ মে ওভারপাসের অর্ধেক অংশ খুলে দেওয়ায় মহাসড়কের ফেনী বাইপাস অংশে যানজট অনেকটা কমে গেছে।
ফেনী জেলা ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ (টিআই) মীর গোলাম ফারুক জানান, ‘ওভারপাসের অর্ধেক অংশ খুলে দেওয়ায় মহাসড়কের ফেনী বাইপাস অংশে যানজট এখন নেই। অপর অংশ খুলে গেলে ঈদে মহাসড়কে এ অংশে যানজট দেখতে পাবেন না।’
আরও পড়ুন- ঈদযাত্রায় দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না সড়ক পথের যাত্রীদের