চলছে মুড়ি বেচাকেনাপঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নে ২০টি গ্রামে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। দিনরাত চলছে মুড়ি ভাজার কাজ। হাতে ভাজা মুড়ি তৈরিতে কারিগররা এখন মহাব্যস্ত। সারাবছর কোনোরকম চললেও রমজান মাসে লাভ হয় বেশি। এ মাসের মুনাফা দিয়েই মুড়ি কারিগরদের সারাবছরের সংসার খরচ চলে।
জানা যায়, ময়দানদিঘী ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া, দমুপাড়া, মালাদাম, মোলানীপাড়া, ভিমপুকুর, বাওকালী, ভেলাপুকুর, কাদেরপুর, পুটিমারী, নলেহাপাড়া, পাইকপাড়া, খালপাড়া, সরদারপাড়াসহ অন্তত ২০/২৫টি গ্রামের পাঁচশ’রও বেশি পরিবারের সদস্যদের পৈত্রিক পেশা মুড়ি ভাজা ও বিক্রি করা। ভেজাল ও রাসায়নিকমুক্ত জৈব সারে উৎপাদিত ধানের চাল দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হাতে ভাজা এ মুড়ির খ্যাতি অনেক দিনের। শুধু চাল ও লবণ-পানি মিশিয়ে তৈরি এ মুড়ির স্বাদই আলাদা। হাতে ভাজা এ মুড়ি দীর্ঘদিন তাজা থাকে তাই এর চাহিদাও অনেক বেশি।
একটি বাড়িতে চলছে মুড়ি ভাজাপ্রতি বাড়িতেই রয়েছে ২ থেকে ৪টি করে চুলা। মুড়ি তৈরির গ্রামগুলোতে এখন চলছে উৎসব। গৃহিণীরা বাড়িতে মুড়ি ভাজেন আর পুরুষেরা তা হাটে নিয়ে বিক্রি করেন। একেকটি পরিবার প্রতিদিন ৫০ থেকে দেড়শ’ কেজি পর্যন্ত মুড়ি ভাজে। কারখানার ইউরিয়া সার মেশানো মুড়ি দেখতে সুন্দর হয়। কিন্তু চুলায় ভাজা মুড়ির রং একটু লালচে হলেও তা স্বাস্থ্যসম্মত ও অনেক সুস্বাদু।
ভেলাপুকুরী এলাকার মানিক বলেন, ‘১৮ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। প্রতি হাটে প্রায় ৫০ কেজি করে মুড়ি বিক্রি করি। রমজানের কারণে প্রতি কেজি মুড়ি প্রকারভেদে ৭০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগে ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হতো।’
ক্রেতা বিক্রেতায় ঠাসা মুড়ির বাজারচিতাপাড়া এলাকার কুমিলা রানী বলেন, ‘রমজানের কারণে এখন মুড়ির চাহিদা বেশি। তাই উৎপাদনও বেশি। ছোটবেলা থেকে মুড়ি বিক্রি করি। অন্য সময় মাসে ১ মণ বা দেড় মণ করে মুড়ি ভাজি। কিন্তু এ মাসে ৩০ থেকে ৩৫ মণ মুড়ি ভাজতে হয়। ধানের দাম বাদ দিলে এক মণ ধানের মুড়ি করতে খরচ হয় প্রায় ৩০০ টাকা।’
ডাঙ্গাপাড়া এলাকার মুড়ি উৎপাদনকারী ধনঞ্জয় বলেন, ‘এ পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঋণ নিয়ে কোনও রকমে ধান কিনে মুড়ি তৈরি করে সংসার চলছে। প্রতি সপ্তাহে কিস্তির টাকা দিতে হয়। অনেক কষ্টে আছি। সরকার যদি মুড়ি উৎপাদনকারীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করত, তাহলে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারতাম।’
ভ্যানে বাজারে যাচ্ছে মুড়িপঞ্চগড় শহরের মুড়ির বাজারের পাইকার অহিদুল্লা রাশেদ বলেন, ‘প্রতি হাটে ৫০০ থেকে এক হাজার কেজি মুড়ি কিনি। রমজান মাসে দ্বিগুণ মুড়ি কিনতে হয়। এসব মুড়ি পরে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করি। মেশিনের মুড়িতে প্রচুর পরিমাণ হাইড্রোজ ব্যবহার করে। হাতে ভাজা মুড়িতে এসব ব্যবহার হয় না। এ মুড়ি খেতে সুস্বাদু, মানুষ খেয়ে তৃপ্তি পায়। এ কারণে হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা বেশি।’