বেসরকারি পাট, সুতা ও বস্ত্রকল শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শেখ আনসার আলী জানান, বেসরকারি পাটকল সোনালী জুট মিলে ১০০ কোটি টাকা, আফিল জুট মিলে ৯ কোটি টাকা, এ্যাজাক্স জুট মিলে ২০ কোটি টাকা, সাগর জুট মিলে ১২ কোটি টাকা, মহসেন জুট মিলে ১৮ কোটি টাকা ও জুট স্পিনার্সে ৮ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে শ্রমিকদের।
তিনি বলেন, ‘সাগর জুট মিল কর্তৃপক্ষকে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের জন্য শ্রম দফতর থেকে আগেই তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মিল মালিকরা এ বিষয়ে কর্ণপাত করছেন না। সোনালী জুট মিল কোনও ধরনের পূর্বনোটিশ ছাড়া শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। তাগাদা দেওয়ার পরও মালিকপক্ষ মজুরি ও বোনাস পরিশোধ না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। অধিকাংশ জুটমিলই বন্ধ করে দিয়ে বিক্রি করার পায়তারা চলছে।’
সোনালী জুট মিলের নির্বাহী পরিচালক হাজরা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘মালিকপক্ষ শ্রমিকদের স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন। শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার (৫ জুন) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। তবে এখনও তাদের বেতনের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’
জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি সব পাটকল মালিকদের শ্রমিকের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ করতে হবে। ব্যর্থ হলে প্রশাসন হার্ডলাইনে যাবে। কলকারখানা পরিদর্শন অধিদফতর ব্যর্থ মালিকদের বিরুদ্ধে শ্রম আইন অনুযায়ী মামলা করবে।’
শ্রম অধিদফতরের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘জুট স্পিনার্স মিল হঠাৎ করে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। শ্রম অধিদফতরে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবে।’
শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম সবুজ বলেন, ‘মহসেন ও জুট স্পিনার্স বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। প্রয়োজনে মিল বিক্রি করে হলেও শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে মালিকদের।’
আরও পড়ুন- লাভে বেসরকারি পাটকল, লসে সরকারিগুলো