জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়নের কোনও বিধান সংবিধানে নেই বলে মন্তব্য করেছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান। তিনি বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনও বিধান নেই। বলা আছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী সেখানে থাকবে। সেনাবাহিনী প্রতিরক্ষা বাহিনী। তাই নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনও সম্ভাবনা দেখছি না।’
শনিবার (৯ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলায় সোনাহাট স্থলবন্দরের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।
শাজাহান খান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তির মধ্যে লড়াই হবে। আমি বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তিকেই জনগণ বিজয়ী করবে।’
একই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘২০ দলীয় জোট যদি নির্বাচনে না আসে, তবে ভিন্নভাবে নির্বাচন হবে; যে যার মতো নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।’
শাজাহান খান বলেন, ‘সোনাহাট স্থলবন্দরে ১০টি ভারতীয় পণ্য আমদানির পাশাপাশি ইমিগ্রেশন চালু করা হবে। এজন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসবো। এ ছাড়া, অবিলম্বে নদী খনন করে চিলমারী নৌ-বন্দর চালু করা হবে।’
পরে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সোনাহাট স্থলবন্দর প্রাঙ্গণে স্থানীয় সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী। এসময় স্থলবন্দর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তী, বিআইডব্লিউটিইয়ের চেয়ারম্যান কমডোর মোজাম্মেল হক, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাফর আলী, জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন, পুলিশ সুপার মেহেদুল করিম, ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএইচএম মাগফুরুল ইসলাম আব্বাসী, শিল্পপতি দেশবন্ধু গ্রুপের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী পরে চিলমারী নৌবন্দর পরিদর্শন করেন।
২০১২ সালের ১৭ নভেম্বর সোনাহাট স্থলবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন শাজাহান খান। এরপর ২০১৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বন্দরের নির্মাণ কাজ আরম্ভ করা হয়। এজন্য ১৪ দশমিক ৬৮ একর জমিসহ ৬শ’ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার ১টি ওয়ারহাউজ, ৯৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের পার্কিং ইয়ার্ড, ৮৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের ওপেন স্ট্যাক ইয়ার্ড, শ্রমিকদের জন্য দু’টি বিশ্রামাগার, একটি প্রশাসনিক ভবন, দ্বিতল ভবনের সিকিউরিটি ব্যারাক, একটি দ্বিতল ডরমেটরি ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ৩৯ কোটি ৪৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়।
সোনাহাট স্থলবন্দরের সঙ্গে ভারতের এলসি স্টেশন গোলকগঞ্জ, ধুবরী, আসাম থেকে ১০টি পণ্য আমদানি ও রফতানির চুক্তি হয়। তবে এখনও ৮টি পণ্য আমদানি শুরু হয়নি।