সোমবার (১১ জুন) সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং পটুবনিয়া পাহাড় রোহিঙ্গা শিবিরে কথা হয় পঞ্চাশোর্ধ রোহিঙ্গা নারী ফাতেমা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দেড় মাস আগে স্বামী মারা গেছে। সহায়-সম্বল ও এক ছেলেকে হারিয়ে এপারে প্রাণ বাঁচতে পালিয়ে এসেছি। এখানে এসে একটি ছোট্ট ঝুপড়িঘরে ঠাঁই পেয়েছি। বৃষ্টিতে সেটিও ভেঙে পড়েছে। এখন কী হবে, চার সন্তান নিয়ে কই যাবো? কোথায় থাকব, কিছুই জানি না।’
উখিয়া মধুর রোহিঙ্গা শিবিরে একটি তাঁবুতে রান্নার জন্য মাটির চুলায় আগুন জ্বালাতে ব্যস্ত মোস্তাফা খাতুন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির পানির জন্য কিছুই রান্না করা যাচ্ছে না। চুলার নিচে পানি জমে থাকায় সকাল থেকে অনেকবার চেষ্টা করেও আগুন জ্বালাতে পারিনি। ছেলেমেয়েরা না খেয়ে বসে আছে। কিছু বিস্কুট ছিল, তাদের খেতে দিয়েছি। দুপুরেও খাওয়া হয়নি। রান্না করতে না পারলে রাতে কী খাওয়াবো, জানি না।’
টেকনাফের মৌচনি রোহিঙ্গা শিবিরে ভেঙে যাওয়া তাঁবু ঠিক করার কাজে ব্যস্ত একই পরিবারের চারজন। চারমাস আগে তারা এসেছেন। ত্রাণসামগ্রী পেয়েছেন কিনা, জানতে চাইলে তাদের একজন নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘চাল-ডাল ছাড়া আর কিছু পাইনি। এছাড়া বৃষ্টিতে তাঁবু তছনছ হয়ে গেছে। রান্না করার কোনও ব্যবস্থা না থাকায় ছেলেমেয়েদের খাবার দিতে পারছি না।’
হোয়াইক্যং পটুবনিয়া রোহিঙ্গা শিবিরের নেতা আবদুল হামিদ বলেন, ‘গত দু'দিন সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। ফলে পাহাড়ের ঢালু ও পাদদেশে থাকা তাঁবুগুলোতে কাদাপানি জমে গেছে। রান্নার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছি। কেউ কেউ তাঁবু থেকে মালপত্র সরিয়ে নিচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতে এ অবস্থা, ভারী বৃষ্টিপাত হলে এসব অসহায় মানুষের কী হবে জানি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার ভোরে বৃষ্টিপাতে প্রায় শতাধিক ঘর ভেঙে গেছে।’ পাহাড়ে যেসব রোহিঙ্গা রয়েছে, তাদের সরিয়ে নিরাপদ স্থানে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ‘বৃষ্টির শুরু হওয়ায় ঝুকিপূর্ণ পাহাড় থেকে চার শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের পর্যাক্রমে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল হাসান বলেন, ‘বৃষ্টি হওয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এনজিওদের মাধ্যমে ক্যাম্পের রাস্তাগুলো আরও একটু উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হবে।’