উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা লালু মাঝি বলেন, ‘ঈদুল ফিতরে রোহিঙ্গাদের নামাজ আদায়ে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হবে। কারণ, ক্যাম্পের ব্লকে ব্লকে যে মসজিদগুলো রয়েছে, তা পরিসরে খুবই ছোট। এসব মসজিদে প্রতি জামাতে ১০০ থেকে ১৫০ জনের মতো লোক নামাজ আদায় করতে সক্ষম হবে।’
একই ক্যাম্পের সি-৮ ব্লকের বাসিন্দা রোহিঙ্গা নেতা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ব্লকে নারী, পুরুষ ও শিশু মিলে দুই হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন। এই ব্লকে মসজিদ রয়েছে মাত্র দুটি। কাজেই তিন দফায় ঈদের জামাত করতে হবে। এতে করে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়বেন ঈদের জামাত আদায় করতে আসা মুসল্লিরা।’
একই কথা বলেছেন— আয়ুব আলী ও হামিদ হোসেন। তারা জানান, ‘বৃষ্টি হলে ঈদের জামাত আদায় করা কঠিন হবে মসুল্লিদের। কারণ, এখনও রাস্তাগুলো কাঁদা পানিতে সয়লাব। বৃষ্টি না হলে অন্তত রাস্তার মধ্যে কোনোভাবে নামাজ আদায় করা সম্ভব হবে।’
উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের ৬ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা মোক্তার আহমদ বলেন, ‘আসন্ন ঈদে শত কষ্ট হলেও আমাদের কোনও দুঃখ থাকবে না। কারণ, রাখাইনে যেভাবে আমরা নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তা মনে পড়লে শরীর শিউরে উঠে। আমরা এখানে ক্যাম্পে শান্তিতে আছি।’
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ১১ থেকে ১২ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এই রোহিঙ্গাদের সামাল দিতে সরকার ছাড়াও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা সহ দেশি-বিদেশি এনজিও কাজ করছে। সেখানে নতুন করে কিছু করার সুযোগ নেই। উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক হাজার ২০টি মসজিদ ও ৫৪০টি নূরানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মক্তব) রয়েছে। এসব মসজিদ ও প্রতিষ্ঠানে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। বৃষ্টি না হলে কোনও ধরনের সমস্যা হবে না।’
টেকনাফের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, ‘টেকনাফে রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে ৫টি, আন্তঃরেজিস্টার্ড ক্যাম্পে দেড় শতাধিক মসজিদ ও ২০টি নূরানি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মূলত, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে টেকনাফে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা কম হওয়ায় নামাজ পড়তে তেমন কোনও অসুবিধা হবে না।’
প্রসঙ্গত,গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংস ঘটনায় প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এছাড়া, আগে থেকে আরও প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছে। তারা সবাই এখন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পের বাসিন্দা।