অতিবৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় মৌলভীবাজারে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলায় তিনজন ও কুলাউড়ায় একজন মারা গেছেন। নিখোঁজ রয়েছেন অনন্ত ৫ জন। এলাকাবাসী সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
নিহতরা হলেন– কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাঠালকান্দি গ্রামের সত্তার মিয়া (৫৫), তার ছেলে করিম মিয়া (২৫) একই উপজেলার শমসেরনগর ইউনিয়নের সিংরাউলী গ্রামের প্রতিবন্ধী কামাল মিয়া (৪০) এবং কুলাউড়া উপজেলার আব্দুল লতিফের ছেলে ফয়জুল হক (২৪)।
এছাড়াও কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর, শমশেরনগর এবং আদমপুর গ্রামের ৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার (১৫ জুন) রাত থেকে সত্তার মিয়া তার ছেলে করিম মিয়া ও প্রতিবন্ধী কামাল মিয়া নিখোঁজ ছিলো। শনিবার (১৬ জুন) সকালের দিকে এলাকাবাসী সত্তার ও করিমকে ইসলামপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও মাদ্রাসার সামন থেকে এবং প্রতিবন্ধী কামালকে মুন্সিবাজার রোডের মরাজানের পাড় এলাকা থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
এছাড়াও কুলাউড়া উপজেলায় শনিবার বিকালে বন্যার পানিতে ডুবে যুবক ফয়জুল হকের (২৪) মৃত্যু হয়। কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বাংলা ট্রিবিউনকে নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে শুক্রবার রাতে রাজনগর উপজেলার মনু নদীর কদমহাটা (লংগুরপুল) এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েন শতাধিক গ্রামের প্রায় দুই লক্ষ মানুষ।
অপরদিকে বন্যায় তলিয়ে যাওয়া এলাকায় আটকেপড়া মানুষদের উদ্ধারে কুলাউড়া ও রাজনগরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, টিলাগাঁও ইউনিয়নে ঈদের নামাজ শেষে সেনাবাহিনীর সঙ্গে সারাদিন কাজ করেছি। সঠিকভাবে ত্রাণ বিতরণ ও বন্যার পানিতে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তারা কাজ করেছেন। তাদের সঙ্গে সহযোগিতায় ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসনও।’
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শনিবার সন্ধ্যায় মনু নদীর মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাটের কাছে বিপদসীমার ১৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ভারতের উত্তর ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। যার ফলে পানি বাড়ছে। তবে ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ নদীতে পানি কিছুটা কম আছে, আশা করি ২/১দিনের মধ্যে আরও কমে যাবে।’
মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম জানান, জেলার ৩টি উপজেলায় সেনাবাহিনী কাজ করছে। শনিবার দুপুরে দিকে মনু নদীর শহর প্রতিরক্ষা বাঁধ রক্ষায় সেনাবাহিনী কাজ করেছে। এপর্যন্ত জেলায় ১৪৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বন্যা আক্রান্ত এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে।