পুলিশের নির্যাতন: বিচার দাবি ইউপি চেয়ারম্যানের, আ.লীগ নেতারা চান মীমাংসা

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুসময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মঠবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুসের ওপর ওসি জাকিউর রহমানসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্যাতনের ঘটনা মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান।

এদিকে গুরুতর আহত চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুসকে বুধবার (২৭ জুন) বিকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি পর্যবেক্ষণ কক্ষ থেকে স্থানান্তর করে ৩৫ নম্বর কেবিনে নেওয়া হয়েছে। অর্থোপেডিকস সার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মতিউর রহমান জানান, চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুসের বাম পায়ের ফেটে যাওয়া হাড়ের ভাঙা জায়গায় অস্থায়ীভাবে প্লাস্টার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। 

আহত চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। শত শত নেতাকর্মী এই ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের যেন অবিলম্বে বদলি করা হয়।’

মঠবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুদ্দিন মন্ডল জানান, ‘আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুসের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ত্রিশাল থানার ওসি জাকিউর রহমানসহ দায়ী কর্মকর্তাদের বিচার দাবিতে গত মঙ্গলবার মানববন্ধনসহ দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু কর্মসূচি পালনের কিছুক্ষণ আগে  জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেনসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা মোবাইলে ফোন করে কর্মসূচি পালন না করার জন্য বলেন।  তারা বিষয়টি মীমাংসার জন্য কিছুদিন সময় নেন।’ ত্রিশালের ওসি জাকিউর রহমান

মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য আব্দুল হক সরকার জানান, ‘সরকারদলীয় লোক হওয়ার পরেও পুলিশ অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে। তারওপর সাত দিনেও এই ঘটনার কোনও বিচার হয় না। এর চাইতে মরে যাওয়া ভালো।’

তিনি আরও বলেন, ‘ত্রিশালের আওয়ামী লীগ বর্তমানে পাঁচটি গ্রুপে বিভক্ত। উপজেলা আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী কিছু নেতা ওসি জাকিউরের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে। এর জন্য জনসম্মুখে চেয়ারম্যানের ওপর নির্যাতনের পরও কোনও বিচার পাওয়া যাচ্ছে না।’

মঠবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডা. গৌরাঙ্গ সাহা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুসের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় পুলিশের বিচার দাবিতে আন্দোলনের জন্য স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রস্তুত আছেন। তবে জেলা ও উপজেলা নেতাদের হস্তক্ষেপ ও মীমাংসা করার চেষ্টার কারণে আন্দোলন কর্মসূচি থেমে গেছে।’

মঠবাড়িয়া ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি সুজন মিয়া জানান, ‘চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুসের ওপর অমানবিক নির্যাতনের পরও বিচার না পাওয়ায় কর্মীদের মনে অনেক কষ্ট রয়েছে। ওসি জাকিউর রহমানসহ দায়ী কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে পুলিশ প্রশাসন আরও বেপরোয়া হয়ে যাবে।  এতে সাধারণ মানুষ বেকায়দায় পড়বে।’

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে ওসি জাকিউর রহমান হাসপাতালে গিয়ে গুরুতর আহত চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুসের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে দ্রুত মীমাংসা করা হবে।’

ত্রিশাল থানার ওসি জাকিউর রহমান বলেন,  ‘চেয়ারম্যানের ওপর নির্যাতনের ঘটনা মীমাংসা বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন।’

ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জাফর রিপন বলেন, ‘ওসি জাকিউর রহমানসহ হাসপাতালে গুরুতর আহত চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুসকে দেখতে গিয়েছিলাম। হাসপাতালে চেয়ারম্যানের কাছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে ক্ষমা চেয়েছেন ওসি জাকিউর রহমান। তবে ঘটনা মীমাংসার বিষয়ে কিছুই জানি না।’

উল্লেখ্য, ত্রিশালের মঠবাড়ি ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি বাজারে গত ২১ জুন কারেন্ট জাল রাখার দায়ে আবুল কাশেম ও তার ছেলে মজিদকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার বিষয় নিয়ে পুলিশের সঙ্গে  স্থানীয় চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগনেতা আব্দুল কুদ্দুসের কথা কাটাকাটি হয়। এরই জেরে ওসি জাকিউর রহমানসহ ৫-৬ জন পুলিশ কর্মকর্তা জনসম্মুখে চেয়ারম্যানের ওপর নির্যাতন চালান এবং তাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে আসেন। এই ঘটনায় আহত হয়ে চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস গত ২৬ জুন চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

আরও পড়ুন- চেয়ারম্যানকে পেটালেন ওসি!