শূন্যরেখায় মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীর গুলিতে রোহিঙ্গা শিশু আহত

গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা শিশু আনসার হোসেন (ছবি- প্রতিনিধি)

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে আশ্রয় নেওয়া এক রোহিঙ্গা শিশুকে গুলি করেছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)। বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু কোনারপাড়া শূন্যরেখায় এ ঘটনা ঘটে। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা (পরিদর্শক) ইমন চৌধুরী এ খবর নিশ্চিত করেন।

গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা শিশুর নাম আনসার হোসেন (১৩)। সে জমির হোসেনের ছেলে। আহত শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শূন্যরেখায় আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নেতা দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ বর্ডার গার্ড পুলিশের একটি দল এসে রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে এক রোহিঙ্গা শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। এসময় বাকিরা ভয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে। এ ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

আবদুল হালিম নামে এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকালে সীমান্তের শূন্যরেখার কোনার পাড়ার দক্ষিণে একটি খালের পাশে অবস্থান করছিলেন রোহিঙ্গারা। এসময় বর্ডার গার্ড পুলিশের একটি দল তাদের লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে রোহিঙ্গা শিশু আনসার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়। প্রায় ৮ মাস আগে আনসার হোসেন ও তার পরিবার মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নেয়।’

ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা ইমন চৌধুরী জানান, গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গা শিশুদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুলির বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুন) দুপরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) আঞ্চলিক কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক হয়। এ বৈঠকে বর্ডার গার্ড পুলিশ আশ্বাস দেয়, নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু কোনারপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেবে তারা। এ আশ্বাসের আধাঘণ্টা পার না হতেই রোহিঙ্গা শিশুকে গুলির ওই ঘটনা ঘটলো।