সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘২০১৩ সালের জুলাই মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় এই হাসপাতালটি । একই বছর ৯ সেপ্টেম্বর ফেনী সিভিল সার্জন এবং সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের মেসার্স রয়েল অ্যাসোসিয়েট অ্যান্ড দেশ উন্নয়ন লিমিটেডের কাছ থেকে ভবনটি বুঝে নেন। হাসপাতালটিতে বর্তমানে একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো) ও একজন পিয়নকে প্রেষণে দিয়ে কোনোমতে বহির্বিভাগে চালু করা হয়েছে। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোনও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব নয়। হাসপাতালটি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি, ওষুধ, আসবাবসহ আনুষঙ্গিক সামগ্রীর জন্য সিভিল সার্জনের কাছে একাধিকবার চিঠি লেখা হয়েছে।’
সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুল আলম বলেন, ‘একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারকে ডেপুটেশনে দিয়ে নামকাওয়াস্তে হাসপাতালটির আউটডোর চালু করা হয়েছে। তবে স্থানীয় মানুষের কাজে লাগছে না হাসপাতালটির সেবা কার্যক্রম। উপকূলীয় মানুষের চিকিৎসার সেবা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে যেন এই হাসপাতালের সব কার্যক্রম চালু করতে হবে।’
সরেজমিন দেখা গেছে, নির্মাণকাজে ত্রুটির কারণে হাসপাতাল ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। ময়লা আবর্জনায় ভরা জরাজীর্ণ হাসপাতালের লোহার গ্রিল, জানালা, দরজা ও কাচের গ্লাসও ভেঙে গেছে। হাসপাতাল কমপ্লেক্স বিরান পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। হাসপাতাল ভবন, ডাক্তার কর্মচারীদের বাসাসহ পুরা কমপ্লেক্স এলাকা অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। কোনও কিছুই কাজে লাগছে না। বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে থেকে এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এগুলো নষ্ট হচ্ছে। এছাড়াও হাসপাতালটিতে নিরাপত্তার জন্য নেই নৈশপ্রহরী। ফলে হাসপাতালের অভ্যন্তরে নিয়মিত মাদকসেবীদের আড্ডা বসে বলে জানান স্থানীয়রা।
ফেনীর সিভিল সার্জন হাসান শাহরিয়ার কবীর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন দেওয়া আছে। এছাড়া এবার মন্ত্রী মহোদয়ের ভিজিটে চাহিদাপত্রটি উনার হাতে হাতেও দেওয়া হয়েছে।’