সুপ্রিম কোর্ট এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের নির্দেশের পরও বেতন-ভাতা পরিশোধ না করায় আমরণ অনশন শুরু করেছেন বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। রবিবার (১ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে ‘৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ’র ব্যানারে তারা এ কর্মসূচি পালন করেন।
কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা জানান, ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শেবাচিম হাসপাতালে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে ২১৫ জন কর্মচারী নিয়োগ পান। তারা নিয়োগপত্র অনুযায়ী কাজে যোগদান শুরু করলে ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্মচারীদের যোগদান কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। এ আদেশের বিরুদ্ধে কর্মচারীরা রিট করলে ওই বছরের ২২ আগস্ট উচ্চ আদালত কর্মচারীদের পক্ষে রায় দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করলে আদালত তা খারিজ করে দেন।
বক্তারা আরও জানান, এরপর চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি ওই রায় বাস্তবায়নের জন্য পরিচালককে নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধিদফতরের ডিজি। এ আদেশ পেয়ে পরিচালক ২৪ ফেব্রুয়ারি কর্মচারীদের বিভিন্ন দফতরে যোগ দেওয়ার কার্যাদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে পরিচালককে গত ৪ এপ্রিল যোগদানকৃত কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজি। মামলা চলাকালীন ৩০ মাসকে কর্মচারীদের স্থগিত-কর্মকাল হিসেবে গণ্য করে ওই সময়ের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তার কাছে নিদের্শনা (জিও) পাঠান পরিচালক ডা. বাকির হোসেন। এ নির্দেশনায় জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন-বইসহ সব প্রক্রিয়া শেষ করেন। কিন্তু অদৃশ্য ও রহস্যজনক কারণে পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বেতন-ভাতা দিচ্ছেন না। এদিকে, কাজে যোগদানের পর গত চার মাসেও বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় ২১৫ কর্মচারী তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
এ ব্যাপারে পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ‘গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মচারীরা হাসপাতালের বিভিন্ন দফতরে কাজ করে আসছেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে তাদের বেতন-ভাতা দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য মতামত চেয়ে ফের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠির জবাব পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে, কর্মচারীদের আমরণ অনশনে রোগীদের সেবা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা পড়েছেন চরম বিপাকে।