এদিকে দুর্ঘটনার পর পাশের জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়া তেল অপসারণের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না হওয়ায় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শিমরাইলকান্দি এলাকায় গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তেলবাহী ট্রেনের ৯টি বগি ছিটকে পাশের খাদে পড়ে। এতে জ্বালানি তেল পাশের জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরের দিন রবিবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রেললাইন মেরামত করলেও তেলবাহী বগি এবং জলাশয় থেকে জ্বালানি তেল অপসারণের বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া, রিপন চৌধুরী, শামসুল আলম ও গোলাম জিলানী জানান, ডিজেলের গন্ধ পুরো এলাকায় ভেসে বেড়াচ্ছে। বাসাবাড়িতে থাকা সাধারণ মানুষ গ্যাসের চুলায় আগুন ধরাতে ভয় পাচ্ছেন। এছাড়া জলাশয়ের মাছ এরই মধ্যে মরে ভেসে উঠেছে। এ ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
জ্বালানি তেল অপসারণে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ কমান্ডেন্ট ইকবাল হোসেন এবং রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান যন্ত্র প্রকৌশলী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, বগিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। জ্বালানি তেল অপসারণের জন্য চেষ্টা চলছে। শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, পরিবেশের বিপর্যয় এড়াতে দ্রুত সময়ের মধ্যে জলাশয় থেকে জ্বালানি তেল অপসারণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুর্ঘটনার পর থেকে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে।
দুর্ঘটনায় পড়া ট্রেনে কী পরিমাণ জ্বালানি তেল ছিল তা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বগিগুলোর গায়ে লেখা ধারণক্ষমতা অনুযায়ী, ৯টি বগিতে মোট ৩ লাখ ১২ হাজার ৫৭৯ লিটার জ্বালানি তেল ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।