রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বিষয়ে আশ্বস্ত করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন এই নারীমিয়ানমারে নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার বিষয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্বস্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সোমবার (২ জুলাই) কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে ১২৩ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে কথা বলেন গুতেরেস। এসময় নানা বঞ্চনা-নির্যাতনের কথা শুনে তিনি তাদের সান্ত্বনা দেন।

সোমবার সারাদিন উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্প, মধুরছড়া, কুতুপালং রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের ডি-৪ ও ডি-৫ ব্লক পরিদর্শন করেন গুতেরেস। এসময় ইউএনএফপিএর নারী কেন্দ্রে ২৩ জন নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গা নারী ও রেজিস্ট্রার্ড ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকে ১০০ জন রোহিঙ্গা পুরষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব। তার সঙ্গে কথা বলা রোহিঙ্গাদের কয়েকজন এ প্রতিবেদককে তাদের আলাপের বিষয়ে জানান।

জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে আলাপের কথা জানাচ্ছেন এই নারীতারা বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন ও রাখাইনে শোষণ-বঞ্চনার কথা শোনে জাতিসংঘ মহাসচিব তাদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন এবং যেকোনও মূল্যে তাদের নাগরিকত্বসহ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন। রোহিঙ্গারা জাতিসংঘ মহাসচিবকে জানান তারা মিয়ানমারে ফিরতে এবং নাগরিকত্ব ফিরে পেতে চান।

এসময় অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমও উপস্থিত ছিলেন।

অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে কথা বলেছেন এই রোহিঙ্গা অ্যান্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে কথা বলেছেন রোহিঙ্গা নারী জোহুরা বেগম (৪৫)। তিনি বলেন, ‘আমি জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে কিছু দাবি জানিয়েছি। এর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে রাখাইনে শান্তি বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং দ্বিতীয় হচ্ছে, মিয়ানমারে আমাদের পূর্ণ নাগরিকত্বসহ একটি রাষ্ট্রের সব সুযোগ সুবিধা প্রদান। উত্তরে মহাসচিব আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন, জাতিসংঘ সব সময় রোহিঙ্গাদের পক্ষে আছে এবং থাকবে। এজন্য আমাদের একটু ধৈর্য ধরার পরামর্শ দেন তিনি।’

আরেক রোহিঙ্গা নারী রাজিয়া বেগম (৪০) বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতনের কথা বলেছি। তিনি (অ্যান্তোনিও) সব কথা শুনে আমাদের নাগরিকত্ব, নিরাপদ প্রত্যাবাসনসহ রোহিঙ্গাদের সব অধিকার ফিরিয়ে দিতে জাতিসংঘ কাজ করছে বলে জানান। তিনি বলেছেন, মিয়ানমার সরকারকে প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে জাতিসংঘ। খুব শিগগিরই তোমরা তোমাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবে।’

কুতুপালং ডি-৫ ব্লকে আইওএম  এর হেলথ কেয়ারে কথা হয় রোহিঙ্গা যুবক আবু সৈয়দের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ইউএনএইচসিআর এবং মিয়ানমারের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে এ নিয়ে কথা বলেছি জাতিসংঘের মহাসচিবের সঙ্গে। তাকে আমরা বলেছি, ওই চুক্তির মধ্যে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ পুরো অধিকারের কথা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে গেলেও পুনরায় নানা নির্যাতনের শিকার হতে হবে। উত্তরে তিনি বলেছেন, তোমাদের অধিকার যাতে সম্পূর্ণভাবে ফিরে পাওযা যায় সে ব্যবস্থা করছি। সব ঠিক হয়ে যাওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছ থেকে সান্ত্বনা পেয়ে নতুন করে আশান্বিত হয়েছেন বলে জানান অনেক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম সোমবার সকালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের জন্য কক্সবাজারে আসেন। উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে পৌঁছে সেখানকার এক্সটেনশন-৪, নিবন্ধিত সি-ব্লক ও ডি-৫ ব্লকের বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এসময় তারা মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এর আগে ২০০৮ সালে অ্যান্তোনিও গুতেরেস কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে এসেছিলেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশে এটাই তার প্রথম সফর। তবে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম দুই বছর আগেও একবার বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন।