সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল হোসেন জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে রেলসেতুর কাজ চলছে। রেলসেতুর নির্মাণকাজ দেখার জন্য স্থানীয় লোকজন প্রতিদিনই সেতু এলাকায় আসেন। এ সেতুটি এলাকার মানুষের ভাগ্য বদলে দেবে। কিন্তু কবে কাজ শেষ হবে সেই আশায় দিন গুনছি আমরা।’
স্থানীয় ইজিবাইক চালক মো. কামরুল বলেন, ‘রেলসেতুর মতো বড় প্রকল্পের কাজে এ রকম ধীরগতি কেন? প্রকল্পের সময় বাড়লে এর মধ্যে নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যও বাড়বে। অতিরিক্ত টাকা সংস্থানের অজুহাতে কাজ বন্ধের ষড়যন্ত্রও হতে পারে।’
খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাষ বলেন, ‘খুলনা-মোংলা রেল প্রকল্পের রূপসা রেলসেতুটি নির্মিত হলে এই অঞ্চলের ব্যাবসায়ীদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। দ্রুত এর কাজ শেষ হোক আমরা এটাই চাই।’
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, ‘রূপসা রেলসেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করা জরুরি। কিন্তু ধীরগতিতে কাজ হওয়ার কারণে সাধারণ জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে।’
তবে ধীরগতির অভিযোগ অস্বীকার করে খুলনা রেলওয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এ ধরনের কাজের শুরুতে কিছুটা বেশি সময় লাগে। রেলসেতু নির্মাণের শুরুর দিকে পাইলিং জটিলতার কারণে সময় লেগেছে। ফলে এখন পর্যন্ত ১৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেলসেতুর কাজ শেষ হবে। শিগগিরই রূপসা রেলসেতুর খুলনা অংশে প্রথম স্প্যান বসানো হবে। এর উচ্চতা হবে ১৬ মিটার।’
খুলনা জেলা প্রশাসক (ডিসি) আমিন উল আহসান বলেন, ‘দায়িত্ব পেয়ে জমি অধিগ্রহণ কাজ দ্রুততার সঙ্গে শেষ করা হয়। এরপর নির্মাণ কাজ শুরুর অনেক আগেই ওই জমি সংশ্লিষ্টদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।’
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২১ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) খুলনা-মোংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন করে। এরপর ২০১৬ সালের ১৪ এপ্রিল রূপসা রেল সেতু নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্টের কাজ শুরু হয়। খুলনা অংশের জমি ২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর এবং বাগেরহাট অংশের জমি ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি বুঝে পেয়েছিলেন প্রকল্প কর্মকর্তারা।
২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত দুই দফায় পাইল টেস্ট হয়। দুই দফায় ৪০ ও ৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের পাইল লোড টেস্ট ফেল হয়। এরপর রেল ভবনে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠান খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক। পরে ডিজাইন পরিবর্তন করা হয় এবং গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের আরেকটি পাইল লোড টেস্ট হলে সেটি সফল হয়। সফল পাইল লোড টেস্ট হওয়ার পর ২০১৭ সালের ১৫ অক্টোবর রূপসা রেল সেতুর পাইলিংয়ের কাজের উদ্বোধন করেন রেল মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন।
এই প্রকল্পের মেয়াদ ৪২ মাস যা ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। রূপসা রেলসেতুর জন্য ১ হাজার ৭৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। রেলসেতু নির্মাণের জন্য ২০১৫ সালের ২৪ আগস্ট ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্র নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়। খুলনা ও মোংলা অংশে ৫.১৩ কিলোমিটার সেতুতে ১৪৩টি স্প্যান বসানো হবে। যার ৭টি হবে নদীতে ও বাকি ১৩৬টি সড়কে বসানো হবে। এছাড়া রেল সেতুতে ১৪৪টি পিলার বসানো হবে। যার ৭টি বসবে নদীতে। বাকি ১৩৭টি বসবে সড়কে।
আরও পড়ুন- পিলারে বসলো পদ্মা সেতুর পঞ্চম স্প্যান, ৭৫০ মিটার দৃশ্যমান