এলাকাবাসী জানান, বাঘৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মো. সিফাত হোসেন (১২) ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. জিহাদ আহমেদ (১৪) বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের স্কুলের পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরে আসে। বাড়িতে স্কুলের পোশাক পাল্টে দুই বন্ধু মিলে তাদের আরেক বন্ধু জুনাইদ হোসেনকে (১৫) নিয়ে রাজেন্দ্রপুর খালের পাড়ে আসে। দুপুর ১টার দিকে তারা খালে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পানিতে লাফালাফি করার পর তারা তিনজন একসঙ্গে খালের পানিতে লাফ দেয়। এসময় জুনাইদ খাল থেকে ওপরে উঠে আসলেও সিফাত ও জিহাদ খালের স্রোতে ভেসে গিয়ে কচুরিপানার ভেতরে তলিয়ে যায়। এসময় জুনাইদ চিৎকার করলে আশেপাশের মানুষ খালের পাড়ে এসে জমায়েত হয়। তারা সিফাত ও জিহাদকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে খবর দিলে কেরানীগঞ্জসহ ঢাকার ফায়ার সার্ভিস জোন-৪এর একদল ডুবুরি ঘটনাস্থলে এসে নিখোঁজ দুই স্কুল ছাত্র সিফাত ও জিহাদকে উদ্ধারের অভিযান চালায়। সন্ধ্যা ৬টা ১৫মিনিটের সময় সিফাতের লাশ খালের কচুরিপানার নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
সিফাতের বাবার নাম মো. মফিজুল ইসলাম। তাদের বাড়ি বাঘৈর গ্রামে। সে তিন ভাইবোনের মধ্যে মেঝ। সিফাতের বাবা জানান, ‘দুপুরে স্কুলের পরীক্ষা দিয়ে সিফাত বাড়িতে এসে পোশাক পাল্টেই বের হয়ে যায়। বন্ধুদের সঙ্গে খালে গোসল করতে এসে সে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো। তার বাকি পরীক্ষা আর দেওয়া হলো না।’
নিখোঁজ জিহাদের বাবা ঈমান আলী বলেন, ‘দুপুরে আমার ছেলে পরীক্ষা শেষ করে বাড়িতে আসে। স্কুলের পোশাক খুলে শুধু সেমাই খেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খালে গোসল করতে চলে যায়। এখনও সে নিখোঁজ।’ জিহাদের বাড়ি বাঘৈর নগর গ্রামে। সে তার বাবার প্রথম সন্তান।
এদিকে এক শিশুর মৃত্যু ও একজনের নিখোঁজের এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকার হাজার হাজার মানুষ খালের পাড়ে ভিড় করেন।
ফায়ার সার্ভিস ঢাকা-৪ জোনের উপ-সহকারী পরিচালক মানিকুজ্জামান জানান, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছি। তবে খালে প্রবল স্রোত ও প্রচুর কচুরিপানা থাকায় আমাদের একটু অসুবিধা হয়েছে।’ জিহাদের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।