অভিযোগে জানা যায়, পেড়লী ইউনিয়ন উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান যোগদানের পর থেকে ইউপি চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যা বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। মুস্তাফিজুর রহমান চাঁদা দিতে না চাইলে গত ২৬ মে বিকালে চেয়ারম্যান জারজিদ তার দলবল নিয়ে পেড়লী ভূমি কার্যালয়ের দরজা বন্ধ করে মুস্তাফিজুর রহমানকে কিল,ঘুষি,লাথি ও চড় মারতে থাকেন। একপর্যায় চেয়ারম্যান কাঠ দিয়ে মুস্তাফিজুরের মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। বিষয়টি মুস্তাফিজুর কালিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার খালিদ হোসেন সিদ্দিকীকে জানালে জারজিদ মোল্যা মুস্তাফিজুর রহমানের ওপর আরও ক্ষিপ্ত হন। এরপর গত ৩ জুলাই ৬-৭ জনের একটি দল নিয়ে দুপুর ১২টার দিকে পেড়লী ভূমি কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর ও নথিপত্র নষ্ট করাসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান ও তার লোকজন সরকারি কাজে বাধা দেন এবং মুস্তাফিজুরকে গালিগালাজ করেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মুস্তাফিজুর।
এ ব্যাপারে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানতে উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি)খালিদ হোসেন সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,‘দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তার ঝামেলা চলছে। এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।’
পেড়লী ইউপি চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যা বলেন, ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ শমসের আলী মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপরতা রয়েছে।’