স্কুলছাত্রী এ্যানি অপহরণ মামলার প্রধান আসামি ধরা পড়েনি

অপহরণনড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মশাঘুনি এলাকার স্কুলছাত্রী এ্যানি খানম অপহরণ মামলার প্রধান আসামি খালিদ হাসান ওরফে সিনবাদ ওরফে সাগরকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো এ্যানির পরিবারের সদস্যদের মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন প্রধান আসামি সিনবাদ। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ্যানির মা। তবে পুলিশ বলছে, আসামিদের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।এদিকে অপহরণের ২৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও খোঁজ মেলেনি এ্যানি খানমের।

এ্যানির পরিবারের সদস্যরা জানান,মামলা দায়েরের পর অপহরণ চক্রের মূলহোতা সিনবাদ ও তার সহযোগীরা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মেয়েকে এখনও না পাওয়ায় এ্যানির পরিবারের সদস্যরা পাগলপ্রায়। তাদের ধারণা এ্যানিকে পাশের দেশে পাচার করে দিয়েছেন আসামিরা। মামলা দায়েরের পর চন্দনা ও নাবিদুল নামে দুজন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে পাঠালেও, মামলার প্রধান আসামি এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।মামলার বাদি এ্যানির মা প্রধান আসামিসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতে নড়াইল পুলিশ সুপারের প্রতি আহ্বান জানান।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়,লোহাগড়া পৌরসভার মশাঘুনি এলাকার ওমর আলী শেখের নবম শ্রেণির মেয়ে এ্যানিকে স্কুলে আসা যাওয়ার পথে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন একই গ্রামের লাকু শেখের ছেলে খালিদ হাসান ওরফে সিনবাদ ওরফে সাগর (২৩)।মেয়েকে উত্ত্যক্ত’র বিষয়ে এ্যানির বাবা-মা প্রতিবাদ করলে সিনবাদ এ্যানিকে অপহরণের হুমকি দিতে থাকেন। বিষয়টি সিনবাদের অভিভাবকদের জানালে তারা এর প্রতিকার না করে উল্টো এ্যানির বাবা-মাকে ভয় দেখিয়ে সিনবাদকে এ্যানির পিছনে লেলিয়ে দেন।গত ১৫ জুন বিকালে এ্যানি বাড়ি থেকে লক্ষীপাশায় মামাবাড়ি যাওয়ার সময় ডা. সালাউদ্দিনের বাড়ির কাছ থেকে সিনবাদ ও তার সহযোগিরা এ্যানিকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান।এরপর থেকে এ্যানিকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

মামলার বিবরণ থেকে আরও জানা যায়, অপহরণের ছয় দিন পর গত ২১ জুন এ্যানির মা বাদি হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৩০ ধারায় লোহাগড়া থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয়– মশাঘুনি গ্রামের খালিদ হাসান ওরফে সিনবাদ,সিনবাদের মা রাবেয়া আক্তার ওরফে চন্দনা, চন্দনার দ্বিতীয় স্বামী নাবিদুল মোল্যা,গোপিনাথপুর গ্রামের সেকেন্দার ওরফে সেকন মোল্যা ও তার স্ত্রী সাহিদা বেগমকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লোহাগড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম জানান,স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারের ঘটনায় দুজন আসামেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে সিনবাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।